“অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি করছে স্বামী!” ২ বছর ধরে মিথ্যে বলে প্রেমিককে নিয়ে নিজেই তাঁকে খুন করে পুঁতে রাখল স্ত্রী

গত দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যুরহস্যের যে তথ্য সামনে এল, তা রীতিমতো শিহরিত করে তোলার মতো। সাইানাইড খাইয়ে স্বামী জিগ্নেশকে খুন করার পর কারখানা চত্বরে তাঁর দেহ পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ স্বামীর পরিবারের সদস্যদের নিখুঁতভাবে মিথ্যে কথা বলে বোকা বানিয়ে রেখেছিলেন স্ত্রী পৃথ্বী। সম্প্রতি মৃতের ভাইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের কুকীর্তি ফাঁস করে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই মৃত জিগ্নেশের ভাই অশোক ধর্মেশভাই মাধবজিভাই মাভদিয়া পুলিশের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ দুই বছর ধরে জিগ্নেশের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরিবারের লোকজন জিগ্নেশের খোঁজ নিলে স্ত্রী পৃথ্বী সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি কাজের সূত্রে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানির নিয়মের দোহাই দিয়ে নম্বর দিতে অস্বীকার করেন তিনি। পরিবারের সন্দেহ এড়াতে স্ত্রী এও বলেছিলেন যে, পিআর (Permanent Residency) পাওয়ার পরই জিগ্নেশ ভারতে ফিরবেন।
কীভাবে ফাঁস হল সত্য? > সম্প্রতি এক আত্মীয় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা বলায় জিগ্নেশের আসল ঠিকানা ও ফোন নম্বর চান। সেই সময় স্ত্রীর কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং পুলিশের কাছে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হলে অবশেষে ভেঙে পড়েন স্ত্রী পৃথ্বী।
পুলিশের জেরার মুখে দুই দিন পর স্ত্রী পৃথ্বী ও তাঁর প্রেমিক নিলেশ স্বীকার করে যে, তাঁরা দুজনে মিলে ষড়যন্ত্র করে ২০২৩ সালের মে মাসে জিগ্নেশের মদের সঙ্গে সায়ানাইড মিশিয়ে তাঁকে খুন করেছিলেন। এরপর জিগ্নেশ ও নিলেশের যৌথভাবে ভাড়া নেওয়া একটি খালি কারখানার ভেতরে ১২ ফুট গভীর গর্ত করে তাঁর দেহ পুঁতে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানা চত্বরে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের নিখোঁজ ডায়েরির এই নৃশংস পরিণতিতে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।