মিড ডে মিলে এবার চিকেন বিরিয়ানি? পড়ুয়াদের জন্য বিরাট চমক আনতে চলেছে এই রাজ্য!

পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি ডিম দেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রোটিনযুক্ত পুষ্টিকর খাবার হিসেবে শিশুদের পাতে ডিমের পর এবার কি তবে চিকেন বিরিয়ানিও পরিবেশন করা হবে? এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে অন্য একটি রাজ্যকে কেন্দ্র করে। সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে এবার চিকেন বিরিয়ানি দেওয়ার একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

মিড ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানির প্রস্তাব

তামিলনাড়ুর স্কুলশিক্ষামন্ত্রী রাজমোহন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পে সপ্তাহের অন্তত একদিন শিশুদের পাতে ‘চিকেন বিরিয়ানি’ (Chicken Biryani) পরিবেশন করা হোক।

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে মিড ডে মিল বা স্কুল পুষ্টি কর্মসূচির এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী রাজমোহন স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে বিভিন্ন সরকার কীভাবে এই প্রকল্পকে সমৃদ্ধ করেছে:

  • কে কামারাজার মিড ডে মিল প্রকল্প চালু করেছিলেন।

  • কালাইঞার করুণানিধি এই প্রকল্পে ডিম যুক্ত করেন।

  • এমজিআর এটিকে ‘নিউট্রিশাস মিল প্রোগ্রাম’-এ রূপান্তর করেন।

  • জয়ললিতা সারা সপ্তাহজুড়ে ডিম বিতরণের সুব্যবস্থা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার মিড ডে মিলের মেনুতে চিকেন বিরিয়ানি যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন প্রস্তাব

সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, শিক্ষামন্ত্রীর এই প্রস্তাবটি বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিশেষ বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা রূপায়ণ সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলভিত্তিক পুষ্টি কর্মসূচির ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম পথপ্রদর্শক রাজ্য। ১৯৫০ সালে কামারাজারের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রকল্প পরবর্তীতে ২০২২ সালে ডিএমকে সরকারের আমলেও নতুন রূপ পায়, যখন প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য ব্রেকফাস্ট স্কিম বা সকালের টিফিন চালু করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর এই প্রস্তাব যদি শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়, তবে তা হবে মিড ডে মিলের ইতিহাসে অন্যতম আকর্ষণীয় ও বড় পরিবর্তন। সরকারের মতে, এর ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টির মান যেমন আরও উন্নত হবে, তেমনই স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বা অ্যাটেন্ডেন্সের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, প্রাতঃরাশের মেনুতেও একঘেয়ে সুজি বা উপমার বদলে আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সে রাজ্যের সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *