প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয়বার সংসার? প্রতারিত দ্বিতীয় স্ত্রীকেও দিতে হবে খোরপোশ: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

প্রথম বিয়ের খবর লুকিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন? তবে এবার আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই! প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও স্ত্রীকে খোরপোশ (Maintenance) দেওয়া থেকে কোনোভাবেই হাত গুটিয়ে নিতে পারবেন না স্বামী। সম্প্রতি একটি ল্যান্ডমার্ক মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

আদালত সাফ জানিয়েছে, যে নারী স্বামীর আগের বিয়ের কথা না জেনে বা অন্ধকারে থেকে দাম্পত্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এই আইনি সুরক্ষা কার্যকর হবে। যদিও হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনিভাবে সিদ্ধ নয়, তবুও ভারতীয় দণ্ডবিধির (CrPC) ১২৫ নম্বর ধারা মেনে দ্বিতীয় স্ত্রী খোরপোশ পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকারী।

কী ঘটেছিল এই মথুরার ঘটনাটিতে?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মথুরার বাসিন্দা মনোজ কুমার ওরফে বাবলুর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মনিকা ওরফে সত্যবতী। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পরই মনিকা জানতে পারেন, মনোজ ২০০৮ সালেই প্রথমবার বিয়ে করেছিলেন এবং সেই প্রথম স্ত্রীর সাথে তাঁর আইনি বিচ্ছেদ (Divorce) হয়েছে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর!

অর্থাৎ, ২০১৬ সালে মনিকার সাথে যখন মনোজের বিয়ে হয়, তখন আইনের চোখে মনোজের প্রথম বিয়েটি বহাল ছিল। স্বামীকে প্রতারক বুঝতে পেরে মনিকা ন্যায়বিচার ও খোরপোশের দাবিতে পারিবারিক আদালতের (Family Court) দ্বারস্থ হন। আদালত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মনিকাকে প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

স্বামীর ধূর্ত যুক্তি খারিজ হাইকোর্টে
পারিবারিক আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে সোজা হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী মনোজ। তাঁর যুক্তি ছিল:

প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনিভাবে ‘অসিদ্ধ’ বা অবৈধ (Null and Void)।

বিয়েই যখন অবৈধ, তখন দ্বিতীয় স্ত্রী কীভাবে খোরপোশ দাবি করতে পারেন?

উল্টে তিনি দাবি করেন, তাঁকে নাকি জোর করে মনিকার সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল!

অন্যদিকে, মনিকাতাও আদালতের দেওয়া মাসে মাত্র ৬,০০০ টাকার রায়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বামী একজন সরকারি কর্মী এবং তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫০,০০০ টাকা। সেই তুলনায় এই ৬,০০০ টাকা অত্যন্ত অপ্রতুল।

আদালতের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি গরিমা প্রসাদ স্বামীর সমস্ত আবেদন ও ধূর্ত যুক্তি এক ফুঁয়ে খারিজ করে দেন।

হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, একজন নারী যখন স্বামীর পূর্বের বিয়ের কথা না জেনে প্রতারিত হয়ে দাম্পত্যে প্রবেশ করেন, তখন তাঁকে অবহেলা বা অর্থহীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া যায় না। প্রতারক স্বামী আইনের ফাঁক গলে কোনোভাবেই নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। শেষপর্যন্ত আদালত দ্বিতীয় স্ত্রী মনিকার আবেদন মঞ্জুর করে খোরপোশের পরিমাণ পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *