টেলিগ্রাম প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ভয়ঙ্কর চাল! জারি হলো আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা!

এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ (Telegram)-এর বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিল রাশিয়া। রাশিয়ার শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস’ (FSB) টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দুরভ (Pavel Durov)-এর বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। শুধু তা-ই নয়, দুরভের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা (International Arrest Warrant) জারি করা হয়েছে।
রাশিয়ার সরকারের সাথে মেসেজিং অ্যাপটির দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের মধ্যে এই ঘটনাকে এক অভূতপূর্ব ও বড় ধরণের উত্তাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন এই মারাত্মক অভিযোগ রাশিয়ার?
এফএসবি (FSB)-র দাবি, ইউক্রেনীয় স্পেশাল সার্ভিস এবং বেশ কিছু সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী গোষ্ঠী রাশিয়ার ভেতরে নাশকতা, গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী হামলা এবং সাইবার জালিয়াতি চালানোর জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করছে।
কন্টেন্ট না সরানোর অভিযোগ: এফএসবি অভিযোগ করেছে, রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত এসব কন্টেন্ট বারবার বলা সত্ত্বেও অ্যাপ থেকে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে টেলিগ্রাম।
জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই: মস্কোর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই অ্যাপগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতিক্রিয়া: তবে ডিজিটাল অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, সুরক্ষার নামে রাশিয়া মূলত নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার এবং বাক-স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাভেল দুরভ বা টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দুই দেশের যুদ্ধক্ষেত্রেও জনপ্রিয় টেলিগ্রাম
২০১৩ সালে পাভেল দুরভ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত টেলিগ্রাম আজ বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি (১ বিলিয়ন) সক্রিয় ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্ক।
কড়া এনক্রিপশন ফিচারের কারণে সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের উভয় পক্ষই তথ্যের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য এই অ্যাপটির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্বজুড়ে আইনি চাপে দুরভ: নেপথ্যে কি নতুন অ্যাপের প্রতিযোগিতা?
কেবল রাশিয়াই নয়, পাভেল দুরভ বর্তমানে একাধিক দেশে আইনি জাঁতাকলে পড়েছেন। কিছুদিন আগেই ফরাসি কর্তৃপক্ষও অনুসন্ধানে নামে যে—টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে অবহেলা করছে কি না বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে কি না। তবে দুরভ সবসময়ই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে এসেছেন।
টেলিগ্রামের বিকল্প ‘MAX’: বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই কড়া পদক্ষেপের পেছনে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়, রয়েছে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যও। রাশিয়া বর্তমানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত তাদের নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম “MAX”-কে জনপ্রিয় করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। টেলিগ্রামকে কোণঠাসা করতেই যে দুরভের ওপর এই আইনি চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা বেশ স্পষ্ট।