মিষ্টি নয়, একসময় লঙ্কা আর ভুট্টা দিয়ে খাওয়া হতো চকোলেট! চকোলেটের ইতিহাস শুনলে তাজ্জব হবেন

আজকের দিনে চকোলেট বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্যাডবেরি কিংবা ডার্ক চকোলেটের কোনো মিষ্টি সুস্বাদু বার। তবে চকোলেটের ইতিহাস কিন্তু মোটেই মিষ্টি ছিল না! ওলমেক সভ্যতা থেকে শুরু করে মায়া সভ্যতা—যিশুখ্রিস্টের জন্মের হাজার বছর আগে থেকেই চকোলেট খাওয়ার রেওয়াজ ছিল, কিন্তু সেই চকোলেটের স্বাদ ছিল একদম তেঁতো এবং এটি শক্ত কোনো খাবার নয়, বরং ছিল এক ধরনের তরল পানীয়।
মায়া সভ্যতায় কীভাবে তৈরি হতো চকোলেট?
মায়া সভ্যতার মানুষজন কোকো বীজ শুকিয়ে ও গুঁড়ো করে জলে গুলে একটি ঘন পেস্ট বা তরল তৈরি করতেন।
কী কী মেশানো হতো? এই কোকো মিশ্রণের স্বাদ ও গুণমান বাড়াতে এর সঙ্গে মেশানো হতো নানা ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ এবং শুকনো ভুট্টা।
লঙ্কার ব্যবহার: শুনে অবাক লাগলেও সত্যি যে, স্বাদ বাড়াতে মায়ানরা এই চকোলেটের মধ্যে ঝাল লঙ্কা মেশাতেন!
হট চকোলেটের আদি রূপ: লঙ্কা, ভুট্টা ও ভেষজ মেশানো এই তেঁতো ও ঝাল মিশ্রণটি মায়া সভ্যতার মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত প্রিয় এক নিয়মিত পানীয়—যা আজকের ‘হট চকোলেট’-এর আদি রূপ।
যেভাবে তরল থেকে আজকের শক্ত ‘চকোলেট বার’ হলো
হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বজুড়ে চকোলেট কেবল তেঁতো ও তরল পানীয় হিসেবেই ব্যবহার হয়ে এসেছে। চকোলেটের এই সুদীর্ঘ ইতিহাসে পরিবর্তন আসে উনবিংশ শতাব্দীতে:
১৮১৫ সাল: এক ডাচ্ বিশেষজ্ঞ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোকো পাউডারের তীব্র তেঁতো ভাব অনেকটাই কমিয়ে আনেন।
১৮৪৫ সালের পর: তরল চকোলেটকে জমাট বাঁধিয়ে শক্ত বা ‘সলিড’ চকোলেট তৈরি করার প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়। এর পর থেকেই মূলত বাজারে শক্ত চকোলেট বারের প্রচলন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তাতে মিষ্টি যোগ করে আজকের জনপ্রিয় চকোলেটে রূপ দেওয়া হয়।