“ছাত্র রাজনীতি করলে এমন হবেই!” ঐশী ঘোষের গ্রেফতারি চেষ্টাকে সমর্থন জেপি নাড্ডার, সরব বিরোধীরা

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের উত্তাপ এখনো কমেনি। এরই মধ্যে এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় সদর দফতর ‘একে গোপালন ভবন’-এ দিল্লি পুলিশের অভিযান ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলো। পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুললেও, সংসদে দাঁড়িয়ে তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। পুলিশের এই কাজকে ‘স্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে ছাত্র রাজনীতির চালচিত্র তুলে ধরেন তিনি।
গোপালন ভবনে পুলিশি নাটক ও বাম নেতাদের বাধা
সূত্রের খবর, নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষ। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশে সিপিএম-এর সদর দফতর একে গোপালন ভবনে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ।
তবে সেখানে উপস্থিত সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস সহ শীর্ষ নেতাদের প্রবল আপত্তির মুখে পড়ে পুলিশ। নেতাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত ঐশীকে গ্রেপ্তার না করেই খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হয় দিল্লি পুলিশ বাহিনী।
সংসদে বিরোধীদের তোপ ও নাড্ডার পাল্টা জবাব
বুধবার রাজ্যসভায় এই ঘটনা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই পুলিশ নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করেছে।
নাড্ডা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে এই ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হয়, এটা আমাদের বোঝা উচিত। পুলিশ কেবল তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।”
‘জরুরি অবস্থাতেও আমাকে ক্লাসরুম থেকে ধরা হয়েছিল’
নিজের বক্তব্যকে যুক্তিগ্রাহ্য করতে সাতের দশকের জরুরি অবস্থার দিনগুলির স্মৃতি উসকে দেন জেপি নাড্ডা। কংগ্রেসের শাসনকালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি নিজেও ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কংগ্রেস আমলে জরুরি অবস্থার সময় আমাক ক্লাসরুম থেকে বহু বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তৎকালীন ও বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ তার কাজ করে। কিন্তু এখন বিরোধীরা এটা নিয়ে খামোখা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।”
সিপিএম সদর দফতরে পুলিশি অভিযানের পর নাড্ডার এই মন্তব্যে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক আরও দানা বেঁধেছে।