এসি বার্থে চরম বিপজ্জনক কাজ! সহযাত্রীদের বারণ সত্ত্বেও চলল পুজো, অভিযুক্তকে খুঁজতে হন্যে পুলিশ

চলন্ত ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরার আপার বার্থে বসে প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে এক যাত্রীর পুজো করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রেনের আবদ্ধ কামরায় এভাবে উন্মুক্ত আগুন ও ধোঁয়া ব্যবহারের মতো চরম বিপজ্জনক কাজ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই অভিযুক্ত যাত্রীকে সনাক্ত করতে এবং ট্রেনটি চিহ্নিত করতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় রেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যায়, এসি কামরার বার্থে বসে এক ব্যক্তি পরম শান্তিতে প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ধর্মীয় আচার পালন করছেন।

বাধা দিলেও শোনেননি কথা!
ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের ভেতর ফায়ার অ্যালার্ম বেজে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় সহযাত্রীরা ওই ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ বাধা দেন। এক সহযাত্রীকে স্পষ্ট সতর্ক করে বলতে শোনা যায়:

“এতে সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে! যেকোনো মুহূর্তে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, দয়া করে এটা বন্ধ করুন।” কিন্তু সহযাত্রীদের এত বারণ ও নিষেধ সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি সে সবে কান না দিয়ে নিজের পুজো চালিয়ে যান।

সিসিটিভি ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিংয়ে আরপিএফ (RPF)
রেল সূত্রে খবর, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ রেল আধিকারিক জানিয়েছেন, সাইবার টিম ও রেল পুলিশ (RPF) যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে। যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল, সেটির আইপি অ্যাড্রেস ও ডিটেইলস ট্র্যাকিং করার কাজ চলছে। অ্যাকাউন্ট ট্রেস করা গেলেই ট্রেনের নম্বর, যাত্রার তারিখ ও অভিযুক্ত যাত্রীকে ধরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রেনে আগুন বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করলে কড়া শাস্তি ও জরিমানা
যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রেল মন্ত্রক সম্প্রতি আইন আরও কঠোর করেছে। জন বিশ্বাস (সংস্থান সংশোধনী) আইন এবং রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় ট্রেনে যেকোনো দাহ্য পদার্থ বা উন্মুক্ত আগুন ব্যবহার করা কঠোরভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

ধারা ১৬৫ অনুযায়ী শাস্তি: নিষিদ্ধ দাহ্য সামগ্রী বহনের জন্য সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

কারাদণ্ডের বিধান: জরিমানা না দিলে বা অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ক্ষতিপূরণ আদায়: ওই অগ্নিকাণ্ড বা কর্মকাণ্ডের ফলে রেলের কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেই পুরো আর্থিক ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তের থেকেই আদায় করা হবে।

রেল কর্তৃপক্ষের বার্তা—ট্রেনে রান্না করা, কেরোসিন, বাজি, প্রদীপ, ধূপ, দেশলাই বা সিগারেট ব্যবহারের মতো অসচেতন পদক্ষেপই বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সকল যাত্রীর নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে এই ধরনের গাফিলতিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *