“লাঠি-আগুন আর ধর্মীয় পতাকা নিয়ে ধুন্ধুমার!”-ভারত সীমান্তের কাছে নেপালে প্রাণ গেল যুবকে

দুটি পৃথক ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল নেপালের সুনসারি জেলা। রবিবার রাতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া বাদানুবাদ মুহূর্তের মধ্যে হিংসাত্মক রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীসহ আহত হয়েছেন অন্তত এক ডজনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বিবেচনা করে সোমবার থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবারেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সুনসারি জেলার একাধিক অংশে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কঠোর কারফিউ বলবৎ রাখা হয়।

উল্লেখ্য, সুনসারি জেলাটি ভারতের বিহার সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। কোশি ব্যারেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং থাকার কারণে এটি ভারত ও নেপালের মধ্যে পণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য করিডোর হিসেবে বিবেচিত হয়। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কীভাবে শুরু হলো অশান্তি?

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে দেবগঞ্জ এলাকার কাপ্তানগঞ্জে। সেখানে একই সঙ্গে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পৃথক অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে লাউডস্পিকার বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

দেখতে দেখতে সেই তর্কাতর্কি মারাত্মক রূপ নেয়। লাঠি-সোটা হাতে দু’পক্ষই রাস্তায় নেমে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। শুধু মারপিটই নয়, উত্তেজিত জনতা কাপ্তানগঞ্জ বাজার এলাকায় একাধিক বাড়িঘর, চিকিৎসা কেন্দ্র, যানবাহনসহ সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোঁড়ে এবং শূন্যে ফাঁকা গুলি (ওয়ার্নিং শট) চালায়। তা সত্ত্বেও তাণ্ডব থামা না গেলে বাধ্য হয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে গুলি চালায় পুলিশ। এতেই মৃত্যু হয় ২৪ বছরের এক যুবকের।

জেলা প্রশাসনের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সমগ্র হরিণনগরদেবগঞ্জ গ্রামীণ পুরসভা জুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি হরিণনগর, ভূতাহা, কাপ্তানগঞ্জ, ঘুস্কি ও দেবানগঞ্জ—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি রয়েছে।

অশান্তি এড়াতে সমগ্র এলাকায় ৪ জনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এলাকায় থমথমে ভাব বজায় থাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *