“শিক্ষার্থী হলে লাঠি খাওয়ার জন্য তৈরি থাকুন!” রাজ্যসভায় খড়গের প্রশ্নের মুখে এ কী বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা?

রাজধানীতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন এবং সিপিআই(এম) সদর দফতরে পুলিশ প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। বুধবার রাজ্যসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করা গেল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার দলনেতা জেপি নাড্ডার পাল্টাপাল্টি যুক্তি রাজ্যসভার পরিবেশ গরম করে তোলে।

“অ্যাক্টিভিজম করলে পুলিশি ব্যবস্থার প্রস্তুতি থাকা উচিত”: জেপি নাড্ডা
পুলিশের এই পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন রাজ্যসভার দলনেতা জেপি নাড্ডা। নিজের ছাত্র রাজনীতির দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন:

জরুরি অবস্থার সময়ে তাঁকে নিজের ক্লাসরুম থেকেই দু’বার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

যাঁরা ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন, তাঁদের পুলিশি পদক্ষেপের জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখাই উচিত।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে।

“গণতন্ত্র বিপন্ন, অপরাধীরাই খোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে”: খড়গে
নাড্ডার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দেশে আজ গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়, সাধারণ মানুষও নিরাপদ নন।” ছাত্রছাত্রীদের ওপর “বর্বর বলপ্রয়োগ” করা ব্যক্তিদের আড়াল করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

🚨 সংসদে উত্তেজনার নেপথ্যে প্রধান কারণগুলি
বাম দফতরে দিল্লি পুলিশ: সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে দিল্লি পুলিশ বলপূর্বক তাদের দলের জাতীয় সদর দফতরে প্রবেশ করে। ঐশীর অপরাধ ছিল তিনি যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

পুরোনো মামলার অজুহাত: পুলিশ আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রিটাস কেন জাতীয় দলের দফতরে পুলিশ ঢুকল তা জানতে চাইলে, তাঁকে জানানো হয় ২০২১ সালের জেএনইউ (JNU) ক্যাম্পাসের এক পুরোনো বকেয়া মামলায় এই পদক্ষেপ।

মোদী ও শাহের ক্ষমা চাওয়ার দাবি: বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অত্যাচারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে জবাব দিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

লোকসভাতেও শোরগোল, জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা অখিলেশের
রাজ্যসভার পাশাপাশি লোকসভাতেও বিরোধীরা এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণের আগেই লোকসভায় হট্টগোল শুরু হয়, যার ফলে স্পিকার সভা মুলতুবি করার হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও বলপ্রয়োগের ঘটনা দেশের দমনপীড়নের পরিবেশ তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *