ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক চাপানোর সুযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে? রাশিয়ার তেলে আমেরিকার নতুন চালে সিঁদুরে মেঘ!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শুল্কের খেলায় এবার তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল ভারত। সেনেটে পাস হওয়া রাশিয়া-সংক্রান্ত একটি কড়া নিষেধাজ্ঞা বিলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেখা দিয়েছে চরম টানাপোড়েন। বিলটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হলে, ভারত সহ একাধিক দেশের ওপর আমেরিকা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করতে পারে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সেনেটে ৮৬-১২ ভোটে পাস বিতর্কিত বিল
প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পরিকল্পিত এই বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৮৬ জন সেনেটর এবং বিপক্ষে মাত্র ১২ জন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থিত থাকার সময়ই এই বিলটির অগ্রগতি হয়। এই বিলের সবচেয়ে বড় দিক হলো, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রাশিয়া থেকে বিপুল তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলির ওপর সরাসরি ১০০% শুল্ক বসানোর সর্বময় ক্ষমতা তুলে দেবে।
নিশানায় ভারত-চীন সহ ৫ দেশ
রাশিয়া থেকে শক্তির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমাতে আমেরিকার এই নয়া পদক্ষেপে কেবল ভারত একা নয়, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলিও নিশানায় রয়েছে।
ভারতের ওপর শুল্ক সংকটের পটভূমি
ইরান সংঘাত ও রাশিয়ার তেল: মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি বাধ্য হয়ে রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ায়।
আগের শুল্কের ধাক্কা: ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে আমেরিকা প্রথম রাশিয়ার তেল কেনার অজুহাতে ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫% থেকে ৫০%-এ নিয়ে গিয়েছিল, যা পরে ইরানের সংকটের পর তেল সরবরাহের স্বার্থে শিথিল করা হয়।
নতুন আশঙ্কার মেঘ: এবার নতুন বিলের দৌলতে সেই চাপ সরাসরি ১০০ শতাংশের খাঁড়ায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
আমেরিকার আগামী পদক্ষেপ ও শুল্কের অস্ত্র
এই প্রস্তাবিত আইনের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক শুল্ককে তাঁর বিদেশনীতির প্রধান হাতিয়ার বানাতে আরও শক্তিশালী হবেন। তবে কেবল সেনেটের সবুজ সংকেতেই কাজ শেষ হচ্ছে না; সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি পাশ হতে হবে এবং সেখান থেকে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর তা আইনে পরিণত হবে।
যদি এই বিল পুরোপুরি কার্যকর হয়, তবে রাশিয়া থেকে ক্রমাগত সাশ্রয়ী দামে তেল কিনে নিজস্ব বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা ভারতের বাণিজ্যিক কৌশলে এক বিশাল ধাক্কা আসবে।