“মহাকুম্ভ নয়, মৃত্যু কুম্ভ!” মমতার মন্তব্যে গর্জে উঠল সন্ত সমাজ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উদাহরণ টেনে বড় হুঁশিয়ারি

মহাকুম্ভ মেলা ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় মহলে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলাকে আক্রমণ করতে গিয়ে মহাকুম্ভকে “মৃত্যু কুম্ভ” বলে আখ্যা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই মন্তব্যের পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের সাধু-সন্ত ও আখড়া পরিষদ।
“সনাতনীদের আঘাত করাই এখন ফ্যাশন”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম সুর চড়িয়েছিলেন আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম। তাঁর অভিযোগ, সনাতন হিন্দু ধর্মের ওপর আঘাত হানা এখন কিছু রাজনৈতিক নেতার কাছে ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এর পর পরই আসরে নামে বিভিন্ন আখড়ার শীর্ষ নেতৃত্ব।
সন্ত সমাজের একের পর এক তোপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে মুখ খুলেছেন প্রখ্যাত সাধু-সন্তরা:
যমুনা পুরী (শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহা নির্বানী): “এক জন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কীভাবে এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করতে পারেন? ১২ বছর পর পর কুম্ভ এবং ১৪৪ বছর পর এই বিশেষ মহাকুম্ভের আসর বসে। এই পবিত্র মহাসমাগমকে এভাবে অপমান করা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।”
মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী অরুণ গিরি: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজ্য সামলান। পশ্চিমবঙ্গে সনাতনীরা নিরাপদ নন, সেখানে প্রতিদিন তাঁদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আঙুল তোলার আগে নিজের রাজ্যের কথা ভাবা উচিত।”
মহান্ত রাজেন্দ্র দাস (নির্মোহী আনি আখড়া): “এই জাতীয় অবমাননাকর মন্তব্য করে তৃণমূল প্রধান আসলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পথেই হাঁটছেন। কেজরিওয়ালের আজ কী পরিণতি হয়েছে, মমতারও ঠিক একই হাল হবে।”
মহামণ্ডলেশ্বর ঈশ্বর দাস মহারাজ: “এই ধরনের বক্তব্য মমতার মানসিকতার পরিচয় দেয়। উনি হয়তো পশ্চিমবঙ্গকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন।”
“৫০ কোটি মানুষ যেখানে পুণ্যস্নান করছেন, তাকে অপমান নয়”
অল ইন্ডিয়া সন্ত সমিতির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী জানিয়েছেন, সন্ত সমাজ মমতার এই বক্তব্যকে ধিক্কার জানাচ্ছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এসে দেখে যান, কীভাবে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ পরম শ্রদ্ধায় মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান সারছেন।”
সন্ত সমাজের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্ব তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, মহাকুম্ভ নিয়ে মমতার রাজনৈতিক তোপ এখন উল্টে তাঁর দিকেই বড়সড় বিতর্ক টেনে আনল।