“রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% ট্যারিফ”-আমেরিকায় বিল পাস হলে কি চাপে পড়বে ভারত?

ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগানে বড়সড় ধাক্কা দিতে এবং মস্কোর জ্বালানি রফতানি আয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্দেশ্যে মার্কিন সেনেটে উত্থাপিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা বিল— ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’। মঙ্গলবার সেনেটে বিলটির পক্ষে ৮৬-১২ ভোটে প্রাথমিক ভোটাভুটি (Procedural Vote) সম্পন্ন হয়েছে।
এই বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক (Tariff) আরোপের অবাধ ক্ষমতা পাবেন।
কেন নিশানা করা হচ্ছে ভারতকে?
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিমী বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারত ও চীন রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ কম দামে অপরিশোধিত কাঁচা তেল আমদানি শুরু করে। এতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারী তেল শোধনাগারগুলি লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থেকেছে।
তবে প্রস্তাবিত মার্কিন বিলের খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— ভারত, চীন, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ, যারা রাশিয়ার জ্বালানির প্রধান ক্রেতা, তারা যদি রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর এই ১০০% অতিরিক্ত শুল্কের খাঁড়া নেমে আসতে পারে।
ভারতের ওপর কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন যদি সত্যিই এই বিলটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তবে ভারতের অর্থনীতিতে তার বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে:
-
জ্বালানি বাণিজ্যে জটিলতা: রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো বা বন্ধ করা ভারতের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে।
-
ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক বসলে ভারতীয় রফতানিকারকরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং নয়া দিল্লি-ওয়াশিংটন বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বড়সড় ধাক্কা খাবে।
বিলে আর কী কী বিধিনিষেধ রয়েছে?
প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে নামাঙ্কিত এই যৌথ বিলে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মূল লক্ষ্য দুটি:
-
রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার প্রধান উৎস অর্থাৎ জ্বালানি আয় স্তব্ধ করে দেওয়া।
-
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দেওয়া আর্থিক মদত পুরোপুরি রুখে দেওয়া।
বিল পাসের সম্ভাবনা কতখানি?
সেনেটে প্রাথমিক ভোটাভুটিতে বিলটি সবুজ সংকেত পেলেও এটি এখনও চূড়ান্ত আইন নয়।
-
সেনেটের পর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (House of Representatives) বিলটি পাস হতে হবে।
-
চূড়ান্ত পাসের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করলে তা আইনি রূপ পাবে।
-
প্রেসিডেন্টের ইচ্ছেধীন ক্ষমতা: বিলটি পাস হলেও শুল্ক কিন্তু নিজে থেকে চালু হবে না। ট্রাম্প কোনো দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করবেন নাকি জাতীয় স্বার্থে বিশেষ ছাড় (Waiver) দেবেন, তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতেই।
ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ছাড় দেয় নাকি শুল্কের কোপ বসায়, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে নয়া দিল্লি।