“কোনো নোটিশই দেওয়া হয়নি!” ডায়মন্ড হারবারে বুলডোজার চালানো নিয়ে হাইকোর্টে তুঙ্গে সওয়াল-জবাব

আগামী ৭ অগস্ট পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ অফিস ভাঙার প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালতে শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, যে অংশটি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই সম্পত্তি বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নয়। আগামী ৫ অগস্ট দুপুর দু’টোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব
এদিন হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিত নাথ মিত্র দাবি করেন, “মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর মালিকের তরফে দাবি করা হয়েছে যে ৫০৯ ও ৫১২ নম্বর দাগের জমি তাদের। অথচ রাজ্য প্রশাসনের তরফে সেই অংশ ভাঙাই হয়নি। যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, তার দাগ নম্বর হল ৫০৭। অর্থাৎ, মামলাকারীর আসল দাগ নম্বর ভাঙা হয়নি।”

অন্যদিকে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির আইনজীবী কিশোর দত্ত রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা অভিযোগ করেন যে, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের পঞ্চায়েত আইন মানা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ন্যূনতম কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “যে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে আবেদনকারীর বক্তব্য জেলা প্রশাসনের আগে শোনা উচিত ছিল। ওই সম্পত্তির মালিকের আইনি অধিকার আছে নিজের বক্তব্য জানানোর। কিন্তু এখানে কোনো নোটিশই জারি করা হয়নি।”

আইনজীবী কিশোর দত্ত আরও অভিযোগ করেন, “কোনো অভিযোগপত্রই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে দেওয়া হয়নি। অথচ তার আগেই বুলডোজার চালিয়ে সমস্ত কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশের সামনেই জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্পত্তির অধিকার মানবাধিকারের একটি অংশ। ইডি (ED) এই সম্পত্তি ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করেছে, তারপরও এসডিও (SDO) কীভাবে এ ধরনের বেআইনি ভাঙচুর চালাতে পারেন?”

রাজ্যের বক্তব্য
এর আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছিল যে, এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রাথমিক অনুসন্ধান করে দেখেছেন ডায়মণ্ড হারবারের আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে অফিসটি রয়েছে, তার নির্মাণ বা অনুমোদন সংক্রান্ত বৈধ কোনো নথি নেই। জেলা পরিষদ থেকে ওই অফিস তৈরির কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। সেই আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বুলডোজার চালানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ অফিসে বুলডোজার চালানোর সিদ্ধান্তের ওপর প্রথম স্থগিতাদেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি রবিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ বসে নির্দেশ দিয়েছিল যে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত কিংবা মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত যেন এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকে। পাশাপাশি, ওই সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্ত মূল নথি দ্রুত আদালতে পেশ করতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। এদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৭ অগস্ট পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *