জুন-জুলাইয়ে টাকা পেলেও এবার কি নাম বাদ যাবে? অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় নির্দেশ প্রশাসনের

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। চলতি মাস থেকেই প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তা খুঁজে বের করতে এবং তালিকা থেকে অযোগ্যদের বাদ দিতে দেশজুড়ে কড়া ভেরিফিকেশন বা তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। সরকারের এই বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই উপভোক্তারা অগাস্ট মাসের নির্ধারিত টাকা হাতে পাবেন। তবে অনেকেই অতীতে জুন ও জুলাই—এই দুই মাসের টাকা পেয়ে থাকলেও বর্তমান কড়া স্ক্রুটিনির জেরে বাতিলের তালিকায় চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই জুন ও জুলাই মাসে এক কোটিরও বেশি উপভোক্তা এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি একাধিক অভিযোগও সামনে আসছিল। একদিকে যেমন বহু প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারী নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে, তেমনই অন্যদিকে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিও অসৎ উপায়ে ভাতার টাকা তুলছেন বলে অভিযোগ জমা পড়ে।
এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানেই এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, তাঁদের জমা দেওয়া নথিও পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যদি তদন্তে দেখা যায় যে কোনো অযোগ্য বা ভুয়া নাম এই তালিকায় ঢুকে পড়েছে, তবে তা অবিলম্বে বাতিল করে দেওয়া হবে।
কাদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
প্রশাসনের তরফে সরাসরি কিছু জানানো না হলেও, সম্ভাব্য বাতিলের তালিকায় মূলত কারা থাকতে পারেন, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে:
ভুল তথ্য প্রদান: যাঁরা আবেদনের সময় ফর্ম পূরণে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
তথ্য গোপন: যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পেতে নিজেদের সঠিক আর্থিক অবস্থা, বাড়িঘর কিংবা আয়ের আসল তথ্য লুকিয়ে গেছেন।
ত্রুটিপূর্ণ নথি: যাঁদের জমা দেওয়া প্রয়োজনীয় নথিপত্রে কোনো গরমিল বা বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে, যাচাইয়ের পর তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
একইসঙ্গে এই বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আগামী ৩০ অগাস্টের মধ্যে যাঁরা প্রকৃত অর্থেই যোগ্য, তাঁদের নাম যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়ে যাবে এবং তাঁরা নির্দিষ্ট টাকা পেয়ে যাবেন।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে জোরকদমে নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। ভেরিফিকেশনের পর যে সমস্ত আবেদনকারী সরকারের বেঁধে দেওয়া যোগ্যতার সমস্ত শর্ত সফলভাবে পূরণ করবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই ভাতার আর্থিক সুবিধা পাবেন।