DCP-র নির্দেশেই আন্দোলনকারীদের উপরে পেলেট গান চালিয়েছিল র্যাফ, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিট (NEET) আন্দোলনকারীদের সংসদ অভিযান রুখতে পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার করা হয়নি বলে প্রথমে জোরালো দাবি করেছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সমস্ত সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ফাস করে দিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি)-র নথি অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের এক ডিসিপি (DCP) পদমর্যাদার অফিসারের নির্দেশেই র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) ছররা গুলি চালিয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বা স্পষ্ট সাফাই দেওয়া হয়নি।
কী রয়েছে ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে?
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দিন সংসদ অভিযান হয়েছিল, সেই ২০ জুলাই রাত দেড়টা নাগাদ পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় একটি জিডি জমা পড়ে। সেই নথি হাতে পাওয়ার পরেই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ওই সংবাদমাধ্যম। জিডি-র তথ্য অনুযায়ী:
-
আন্দোলনের সময় বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দিল্লি পুলিশের এক ডিসিপি পদমর্যাদার অফিসারের নির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল।
-
সেই নির্দেশ পেয়েই র্যাফের এক ডেপুটি কমান্ড্যান্ট মোট ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার গ্যাসের শেল এবং প্লাস্টিক পেলেট ভর্তি ২টি অ্যান্টি-রায়ট গান থেকে গুলি চালিয়েছিলেন।
ছররা গুলিতে মারাত্মক জখম আন্দোলনকারী
দিল্লিতে এই পেলেট বা ছররা বন্দুকের ব্যবহারের ফলে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জন আন্দোলনকারী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদেরই একজন হলেন ১৯ বছর বয়সি সাহিল লোচাব, যিনি সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের ও পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পেলেট বা ছররা দানা গিয়ে সরাসরি তাঁর ডান চোখে আঘাত হানে, যার ফলে চোখের মণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সাহিলের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ! ঘটনাচক্রে, দিল্লি পুলিশ প্রথমে ছররা বন্দুক ব্যবহারের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করলেও, সফদরজং হাসপাতালের রিপোর্ট তাদের সেই দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেয়। এর ফলেই পুলিশি দমনপীড়ন ও ছররা বন্দুকের ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও
নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশি হিংসা ও যত্রতত্র পেলেট গানের ব্যবহার এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ও নির্বিচারে ছররা বন্দুকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা আইবি (IB)-র অবসরপ্রাপ্ত কর্তা যশবর্ধন আজ়াদ সহ পেলেট হামলায় আক্রান্ত দুই ব্যক্তি। একইসঙ্গে আক্রান্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং উন্নত চিকিৎসার দাবিও জানানো হয়েছে। এই জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।