বিক্ষোভের হুঙ্কার দিতেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র! সিজেপি-র সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে মামলা তোলার বড় দাবি

ফের দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেই আলোচনার টেবিলে বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও ম্যারাথন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং ধৃত কর্মী-সমর্থকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বিহার ও অসমে এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি
সোমবার গভীর রাতে নিজের অফিশিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে সৌরভ দাস জানান যে, প্রেস কনফারেন্স শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, বৈঠকে বিহার ও অসম সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির কপি তাঁদের দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের পুলিশি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা না হয়, সেই বিষয়েও জোরালো আশ্বাস মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ধৃতদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি ও কেন্দ্রের ভূমিকা
সিজেপি নেতার দাবি অনুযায়ী, নিট আন্দোলন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল বা আটক করা হয়েছিল, সেই সমস্ত সিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই ধৃতদের মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার পরই কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুধু তাই নয়, কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি বা এনডিএ (NDA) শাসিত রাজ্যগুলি থেকেও আগামী দিনে একই ধরনের গ্যারান্টিযুক্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সৌরভ।
আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা
সামাজিক মাধ্যমে করা ওই পোস্টে সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই কঠিন লড়াইয়ে সংগঠনের প্রতিটি কর্মী-সমর্থক ও পড়ুয়ার পাশে তারা দৃঢ়ভাবে রয়েছে। আন্দোলনের সময় যাঁদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে বা যাঁরা হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের আইনি সুরক্ষা ও স্বার্থ রক্ষার্থে সংগঠন শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
সরকারি ঘোষণার প্রতীক্ষা
তবে এই পুরো ঘটনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সিজেপি-র পক্ষ থেকে এই বড় সাফল্যের দাবি করা হলেও, কেন্দ্র কিংবা বিহার ও অসম সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সিজেপি-র দাবি অনুযায়ী যদি এই পদক্ষেপগুলি সত্যি কার্যকর হয়, তবে শীঘ্রই সরকারি নির্দেশিকা জারি হতে পারে। তাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্রটি স্পষ্ট হওয়ার জন্য আপাতত সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণার দিকেই তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।