পিক্সেল ১১ কেনার কথা ভাবছেন? র্যামের মারাত্মক সংকটে আকাশছোঁয়া দাম হতে চলেছে গুগলের নতুন ফোনের!

প্রযুক্তি বিশ্বে বড়সড়ো সংকটের মেঘ। আগামী মাসে গুগল তাদের বহুল প্রতীক্ষিত পিক্সেল ১১ (Pixel 11) সিরিজ বাজারে আনতে চলেছে, কিন্তু তার ঠিক আগেই ক্রেতাদের জন্য এল এক হতাশাজনক খবর। বিশ্বজুড়ে র্যামের (RAM) তীব্র ঘাটতির কারণে নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। গুগলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন যে, র্যাম সরবরাহের এই সংকট তাদের হার্ডওয়্যার ব্যবসাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। শুধু আসন্ন মডেলগুলোই নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বর্তমান ও বিদ্যমান পিক্সেল ফোনগুলোর উপরেও।
কেন বাড়ছে পিক্সেল ফোনের দাম?
প্রখ্যাত প্রযুক্তি বিষয়ক পোর্টাল 9to5Google-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের ডিভাইস ও পরিষেবা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল বারকাত জানিয়েছেন যে, র্যাম সরবরাহের এই সংকট পুরো কনজিউমার টেক ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
মূল্যের আকাশচুম্বী তফাৎ: তাঁর অনুমান অনুযায়ী, যেখানে ২০২৫ সালে ১ জিবি র্যামের দাম ছিল মাত্র ২.৮ ডলার, সেখানে ২০২৬ সালে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ ডলারে!
বাজারের ওপর নির্ভরতা: কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পিক্সেল ১১ সিরিজের চূড়ান্ত দামে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। সরবরাহের বর্তমান অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই ফোনের দাম নির্ধারণ করবে কোম্পানি।
আসন্ন পিক্সেল ১১ সিরিজের মডেল ও সম্ভাব্য দাম (ইউরোপীয় বাজার)
আগামী ১৩ আগস্ট ‘মেড বাই গুগল’ ইভেন্টে এই নতুন স্মার্টফোন সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিরিজে যে সমস্ত মডেল বাজারে আসতে পারে এবং তাদের সম্ভাব্য প্রাথমিক দাম নিচে দেওয়া হলো:
পিক্সেল ১১ (স্ট্যান্ডার্ড, ২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্ট): ৯৯৯ ইউরো থেকে শুরু
পিক্সেল ১১ প্রো: ১,১৯৯ ইউরো থেকে শুরু
পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল: ১,৩৯৯ ইউরো থেকে শুরু
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড (এছাড়াও এই সিরিজে থাকতে পারে)
পুরনো পিক্সেল ফোনগুলোর দামেও প্রভাব
প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা শুধু আসন্ন পিক্সেল ১১ সিরিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুগলের পুরো পিক্সেল ইকোসিস্টেম বা পরিবারই এর কবলে পড়তে পারে। এর অর্থ হলো, বর্তমান পিক্সেল ১০ সিরিজ এবং অন্যান্য পুরনো পিক্সেল মডেলগুলোর দামও অদূর ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এবং উৎপাদনের খরচ বিচার করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।