‘ওটা মসজিদ নয়, আদিনাথের মন্দির’, আদিনার ৫০ মিটারের মধ্যে শিব মূর্তি স্থাপন ঘিরে চরম উত্তেজনা!

মালদার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ না আদিনাথ মন্দির—এই দীর্ঘদিনের পুরনো বিতর্ককে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। এই বিতর্কের মাঝেই মসজিদের ঠিক ৫০ মিটারের মধ্যে শিবের মূর্তি বা শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে ‘বঙ্গীয় হিন্দু সুরক্ষা সমিতি’। শুধু তাই নয়, আজ শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবারে সেখানে ঘটা করে শিবের রুদ্রাভিষেক ও বিশেষ পূজাপাঠের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই তারকেশ্বর থেকে একটি বিশেষ শোভাযাত্রার সূচনা হয়। বিভিন্ন জায়গায় বিশ্রাম ও পরিক্রমা শেষ করে রবিবার সেই শোভাযাত্রা মালদায় এসে পৌঁছয়। আজ, সোমবার শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে মালদার আদিনা চত্বরে এই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা ও পূজাপাঠকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মালদহ শহর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
ঐতিহাসিক বিতর্ক ও হিন্দু পক্ষের দাবি
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ সালে সুলতান সিকান্দর শাহ মালদায় আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে এই স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আজকের নয়, বরং বাম জমানা তথা রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।
-
হিন্দু পক্ষের দাবি: বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের জোরালো দাবি, বর্তমান আদিনা মসজিদটি যে স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটি আদতে একটি প্রাচীন ‘আদিনাথ শিবমন্দির’। স্থাপত্যের বিভিন্ন অংশে হিন্দু দেবদেবী ও শিবের অস্তিত্বের চিহ্ন রয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।
-
আইনি লড়াই: এই মালিকানা ও ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে বর্তমানে আদালতেও আইনি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
“অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতোই প্রতিষ্ঠা হবে আদিনাথ”
আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে এই শিব মূর্তি স্থাপন ও রুদ্রাভিষেকের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বঙ্গীয় হিন্দু সুরক্ষা সমিতির তরফে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে যে, আদালতের বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলেই তাঁরা আদিনাথকে পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
সংগঠনের এক উদ্যোক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “প্রায় ৮০০ বছর ধরে বাইরের শক্তির আক্রমণে আদিনাথকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যেভাবে অযোধ্যায় রামলালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, ঠিক সেইভাবেই এখানেও আদিনাথকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হবে।” এই মেগা কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি গোটা এলাকায় চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক পারদ চড়েছে।