প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি নিয়ে ধর্মতলার আন্দোলনে যোগ! আইনি জাঁতাকলে টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র

ধর্মতলায় ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ একটি আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে মারাত্মক আইনি জটিলতায় জড়ালেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। পেশাগত জীবনে নানা বিষয়ে খোলামেলা মন্তব্যের জন্য পরিচিত হলেও, এবার একটি ভাইরাল ছবিকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi) একটি কুরুচিকর ও বিকৃত ছবিযুক্ত পোস্টার শ্রীলেখার হাতে থাকার অভিযোগ উঠতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। ইতিমধ্যেই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে বিজেপি শিবির।

ঠিক কী কারণে এই বিতর্কের সূত্রপাত?
আর জি কর আন্দোলন থেকে শুরু করে অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বহুবারই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তবে এবারের বিতর্ক অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ধর্মতলার ওই প্রতিবাদ সভায় শ্রীলেখার হাতে একটি পোস্টার দেখা যায়, যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি ছিল। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও প্রথম সারির অভিনেত্রী হয়ে কীভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের অবমাননাকর ছবি হাতে নিয়ে আন্দোলনে সামিল হলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতেই অভিনেত্রীর দ্রুত গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি একাংশ বিক্ষুব্ধ মানুষ অভিনেত্রীর বাড়ির সামনে গিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের ও সুশীল সমাজের ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করা এবং তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই শান্তিপুর থানায় এক অধ্যাপক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের আরও একাধিক থানাতেও দায়ের হয়েছে এফআইআর। সুশীল সমাজের একাংশের মতে, একজন জনপ্রিয় শিল্পীকে সমাজের বহু মানুষ অনুসরণ করেন। তাঁর এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কুরুচিকর মানসিকতা সমাজের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং তা সংস্কৃতির অবক্ষয়েরই সমান।

সাফাই দিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র
চারিপাশে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে এবং আইনি নোটিশের খাঁড়া ঝুলছে, তখন নিজের সাফাইয়ে অভিনেত্রী দাবি করেছেন যে ওই পোস্টারটি তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে যাননি। অর্থাৎ এই ঘটনার দায় তিনি ঘুরিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ঘাড়েই চাপাতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

তবে সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি সাংবিধানিক ও সর্বোচ্চ সম্মানের পদ। সেখানে কেবল হাতে পোস্টার ধরা নয়, শ্রীলেখা মিত্র নিজে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করেছিলেন। ফলে এটি যে নিছক ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ নয়, বরং ইচ্ছাকৃত ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ—তা স্পষ্ট। ঘটনার পর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার বদলে অভিনেত্রীর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতিবাম ঘেঁষা মানসিকতারই ফল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *