শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না! আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

শুধুমাত্র আন্দোলন বা বিক্ষোভ চলছে—এই অজুহাতে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যেতে পারে না। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও অতিসক্রিয়তা নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশজুড়ে এই ধরণের আন্দোলন সামলানোর জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় প্রোটোকল (National Protocol) তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট জানাল শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এদিন NEET আন্দোলন এবং সংসদ অভিযান সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার শুনানি ছিল। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মন্তব্য করেন, “শুধুমাত্র বিক্ষোভ চলছে বলেই পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে কখনওই ন্যায্য বলে মেনে নেওয়া যায় না।” একই সঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে আন্দোলনরত প্রতিটি নাগরিকের জীবনই সমানভাবে মূল্যবান এবং প্রত্যেকের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা ও আবেদনগুলি একসঙ্গে শুনানির জন্য আগামী কাল তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

মামলার সূত্রপাত যেভাবে
গত শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি আদালতে জানান যে, সারা দেশেই ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেই সংক্রান্ত আবেদনগুলি ডায়েরি নম্বরের অভাবে এতদিন তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন ডায়েরি নম্বর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকেও মামলায় পক্ষ করা হয়েছে বলে জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানান তিনি।

আইনজীবীর এই আর্জি মেনে নিয়েই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন। সেই মতো সোমবারের শুনানিতে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ এবং সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *