প্রশ্নফাঁস করলেই সোজা ১০ বছরের জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানা! কড়া আইন আনছে মোদি সরকার

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা ঐতিহাসিক ছাত্রবিক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরই দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি চিরতরে দমনে এবার আরও অনেক বেশি কঠোর আইনের পথে হাঁটছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আজ, সোমবার লোকসভায় পেশ করা হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক EXAMINATIONs (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’।

২০২৪ সালের মূল আইনটিকে আরও সংশোধন করে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া এবং সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের লক্ষ্যেই এই বিল আনা হচ্ছে।

বিলে কী কী কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি উত্থাপন ও পর্যালোচনার জন্য পেশ করবেন। গত শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী যে বিষয়গুলি রাখা হয়েছে:

কারাদণ্ড ও জরিমানা বৃদ্ধি: প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অসদুপায়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩-৫ বছর থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫ থেকে ১০ বছর করা হচ্ছে। পাশাপাশি, জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে কড়া সাজা: কোনো সংঘবদ্ধ চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে ন্যূনতম কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর এবং জরিমানার পরিমাণ ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর কোপ: সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার কাজে যুক্ত কোনো এজেন্সি বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা নিয়মভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং কালো তালিকাভুক্ত বা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হবে। এছাড়া অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডিরেক্টর বা উচ্চপদস্থ কর্তাদের ন্যূনতম ৫ বছরের জেল এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে
নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, পুলিশ, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (STF) তদন্ত প্রক্রিয়া অবশ্যই দু’মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের সর্বময় ক্ষমতা থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত নির্ধারণ করবে, যেখানে প্রতিদিন (Daily basis) বিচারকাজ চলবে এবং চার্জশিট দাখিলের মাত্র তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৫টি বেআইনি কাজের সুনির্দিষ্ট তালিকা
এই নতুন নিয়মের আওতায় পরীক্ষার আগের ও পরের বিভিন্ন গোপনীয় প্রক্রিয়া— যেমন পরীক্ষা কেন্দ্রের অডিট, পরীক্ষার্থীদের চেক-ইন, বায়োমেট্রিক নথিভুক্তকরণ, নিরাপত্তা ও আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা, নজরদারি (ইনভিজিলেশন) এবং স্ক্রাইবদের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মানতে হবে। বিলে সুনির্দিষ্টভাবে ১৫টি বেআইনি কাজের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁস করা।
২. ওএমআর (OMR) শিট বিকৃত বা পরিবর্তন করা।
৩. ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা।
৪. জাল বা ভুয়ো অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশজুড়ে সিজেপি-র একটানা আন্দোলনের জেরে সরকারের ওপর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপের মুখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার ও কঠোর আইন প্রণয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ এই বিল পেশের মাধ্যমে সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *