‘১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলেই কেল্লাফতে!’ গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের নতুন পঞ্চায়েত বিলে কার ক্ষমতা বাড়ল?

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় বদল এনে বিধানসভায় পাস হয়ে গেল বহুলচর্চিত পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। এই নতুন বিল আসার ফলে একদিকে যেমন বহু ক্ষেত্রে প্রধান ও উপপ্রধানদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকদের পাওনা টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিলের জেরে কার ক্ষমতা কমল আর কার বাড়ল, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
কী আছে এই নতুন পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলে?
এতদিন পর্যন্ত গ্রামের যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বা মজুরি মেটানোর জন্য পঞ্চায়েত প্রধানের স্বাক্ষরের কড়া প্রয়োজন হতো। অনেক সময় প্রধানের সই বা অনুমোদনের অভাবে দীর্ঘদিন আটকে থাকত শ্রমিকদের পাওনা টাকা। কিন্তু নতুন সংশোধনী বিলে সেই জটিলতা কমানো হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় এবং গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল করতে এই নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পাশাপাশি, এই সংশোধনী বিলে পঞ্চায়েত স্তরে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েতে অনুপস্থিত থাকলেই সংশ্লিষ্ট নেতার ক্ষমতা বা পদ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রধান ও উপপ্রধানদের ক্ষমতা কমিয়ে রাজ্য সরকারের এই বিল আনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই সংশোধনী বিল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, গ্রামীণ স্তরে দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করতে এবং নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এই ধরনের বিল আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেই এই সংশোধনী অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রধানদের একক ক্ষমতার ওপর কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এনে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানোই এই বিলের মূল লক্ষ্য। পঞ্চায়েত স্তরের ক্ষমতার এই পালাবদল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।