এগ ফ্রিজিং নাকি আইভিএফ? মাতৃত্বের পরিকল্পনা করার আগে নারীদের অবশ্যই যা জানা দরকার

বর্তমান যুগে কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে অনেক নারীই দেরিতে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটির ওপর তার প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা মূলত দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতির কথা বলে থাকেন— এগ ফ্রিজিং (Egg Freezing) এবং আইভিএফ (IVF)। তবে এই দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য এবং কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে এই দুইয়ের ফারাক পরিষ্কার থাকা জরুরি।
এগ ফ্রিজিং কী এবং কেন এটি করা হয়?
এগ ফ্রিজিং হলো ভবিষ্যতে মা হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য তরুণ বয়সে সুস্থ ও সবল ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখার একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।
যেসব নারী বর্তমানে কেরিয়ার বা অন্য কোনো কারণে মাতৃত্ব পিছিয়ে দিতে চান, কিন্তু ভবিষ্যতে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে চান, তাঁদের জন্য এগ ফ্রিজিং একটি দারুণ বিকল্প।
কম বয়সে (সাধারণত ৩০-এর কোঠার শুরুতে) ডিম্বাণু ফ্রিজ করে রাখলে তার গুণগত মান অনেক ভালো থাকে।
আইভিএফ (IVF) আসলে কী?
অন্যদিকে, IVF (In-Vitro Fertilization) কোনো সংরক্ষণ পদ্ধতি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজনন চিকিৎসা।
এই পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরিতে নারী শরীর থেকে ডিম্বাণু এবং পুরুষের শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা নিষিক্ত (Fertilize) করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
এরপর সেই ভ্রূণ পুনরায় নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। সাধারণত যাঁদের স্বাভাবিক উপায়ে গর্ভধারণে সমস্যা বা জটিলতা থাকে, তাঁদের জন্য এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়।
“বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান দুটোই দ্রুত কমতে থাকে। তাই এগ ফ্রিজিং হোক বা আইভিএফ—কম বয়সে এই পরিকল্পনা করলে সাফল্যের হার বা পজিটিভ রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে,” জানান বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
অনেক নারীই সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যান না এবং অনেক দেরিতে সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের মতে, পরিবার পরিকল্পনা যদি ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখার কথা ভাবেন, তবে আগেভাগেই কোনো অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের (Fertility Specialist) সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
এর ফলে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য বা বডি ক্লক (Body Clock) সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যতের মা হওয়ার পথকে সুগম করা সম্ভব হয়।