রোনাল্দোর অবসরে কমবে ব্র্যান্ড ভ্যালু, তারকার অবসরে মাথায় হাত পর্তুগালের

২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিল পর্তুগাল। এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোর বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও চিরতরে সমাপ্তি ঘটল। ২৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪৬টি গোলের মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়ে তিনি মাঠ ছাড়লেও, এই বিদায়ের পর্তুগিজ ফুটবলের পর্দার অন্তরালে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। মাঠের খেলা শেষ হলেও, রোনাল্দোর এই প্রস্থান পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (FPF) অর্থনীতি এবং বিশ্বজুড়ে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুর উপর ডেকে এনেছে এক বিশাল অশনিসংকেত।
কেন রোনাল্দোর অবসরে মাঠের বাইরেও সমস্যায় পর্তুগাল?
পর্তুগাল ফুটবলের বিশ্বব্যাপী প্রচার, কোটি কোটি ডলারের লোভনীয় স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার স্বত্বের (Broadcasting Rights) সিংহভাগই এতদিন আবর্তিত হতো একমাত্র ‘রোনালদো’ নামের চারপাশে। মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা দলটির চেয়ে মূলত রোনালদোকেই বেশি অনুসরণ করতেন। ফলে তিনি সরে যাওয়ায় সেই বিশাল আন্তর্জাতিক আলো, আর্থিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক আকর্ষণ এক নিমেষে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় দলের চেয়েও কেন বড় বলা হচ্ছে ‘রোনাল্দো’ ব্র্যান্ডকে?
পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অফ মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো একা পুরো পর্তুগাল ফুটবল দল এবং বিশ্বের বহু দেশের সম্মিলিত ব্র্যান্ড ভ্যালুর চেয়েও অনেক বড়। বহুজাতিক সংস্থা নাইকি (Nike)-র সাথে তাঁর ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের আজীবন চুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শতকোটি অনুসারীই প্রমাণ করে যে, মেগা স্পনসররা মূলত রোনালদোর টানেই পর্তুগিজ ফুটবলে এতকাল বিপুল বিনিয়োগ করতেন।
রোনাল্দো কি ফুটবল থেকে সম্পূর্ণ অবসর নিচ্ছেন?
না, এখনই বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখছেন না সিআর সেভেন। ফুটবল থেকে সম্পূর্ণ অবসর না নিয়ে তিনি তাঁর ফুটবল জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য— ১,০০০ পেশাদার গোল পূরণ করার জন্য সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসর-এর হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর একটি অফিসিয়াল বিদায়ী ম্যাচ খেলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঠের ফুটবলে বিকল্প কি তৈরি হয়েছে?
মাঠের পারফরম্যান্সের কথা বলতে গেলে, পর্তুগাল দলে ভিতিনিয়া, রাফায়েল লিয়াও কিংবা জোয়াও নেভেসের মতো একাধিক বিশ্বমানের ও প্রতিভাবান তরুণ তারকা ফুটবলার রয়েছে। তবে খেলার মাঠে বিকল্প ফুটবলার পাওয়া গেলেও, বাণিজ্যের দুনিয়ায় বা ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’র নিরিখে রোনালদোর শূন্যস্থান পূরণ করার ক্ষমতা এই মুহূর্তে বিশ্বের কোনো উদীয়মান তারকারই নেই।