চাদরে চা বা কফির দাগ রয়ে গেল কিনা তা ধরবে কে? রেলের ধোপাখানায় আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি

ট্রেনে এসি কামরায় যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁরা সকলেই জানেন যে রেলের তরফে যাত্রীদের দুটি চাদর, একটি তোয়ালে, কম্বল ও বালিশ দেওয়া হয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের সেগুলি সিটেই রেখে নেমে যেতে হয়, সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই। একটি সফর শেষ হওয়ার পর এই সমস্ত লিনেন বা বিছানার চাদরগুলো সোজা চলে যায় রেলের বিশেষ লন্ড্রি বা ধোপাখানায়। কিন্তু লাখ লাখ চাদরের মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবার এক অভিনব ও তাক লাগানো পথে হাঁটল ভারতীয় রেল।

রেলের ধোপাখানায় এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার
রেল সূত্রে খবর, যাত্রীদের ব্যবহারের পর ধোপাখানায় ফিরে আসা চাদরগুলিতে অনেক সময় চা, কফি বা খাবারের দাগ রয়ে যায়। এই দাগগুলো ধোয়ার পরেও রয়ে গেল কি না, কিংবা চাদরের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব এখনও ঠিক আছে কি না— তা নিখুঁতভাবে যাচাই করতে এবার রেলের লন্ড্রিগুলিতে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? লন্ড্রিতে কাচাচাইয়ের পর যখন চাদরগুলো পাট করা বা শুকানোর কাজ চলে, তখন এআই ক্যামেরাগুলির নিচ দিয়ে সেগুলি পাস করানো হয়। ক্যামেরার নজরদারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরে ফেলবে চাদরে কোথাও কোনো জেদি দাগ বা সূক্ষ্ম ছিদ্র রয়েছে কি না।

বাতিল করার নিয়ম: গুণগত মানের এই পরীক্ষায় যে চাদরগুলি উত্তীর্ণ হতে পারবে না, সেগুলি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হবে। এর ফলে যাত্রীরা সবসময় ১০০% পরিচ্ছন্ন এবং মানসম্মত বিছানার চাদর পাবেন।

রেলের এসি লিনেনের নিখুঁত নিয়ম
সাধারণত রেলের দেওয়া দুটি চাদরের একটি সিটে পাতার জন্য এবং অন্যটি কম্বলের ঠিক নিচে ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হয়, যাতে সরাসরি কম্বল গায়ে না লাগে। এই কম্বলগুলো অবশ্য প্রতিদিন কাচা হয় না, নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়ম মেনে ধোয়া হয়। তবে চাদর ও তোয়ালে প্রতি যাত্রীর ব্যবহারের পরেই ধোপাখানায় পাঠিয়ে একেবারে নতুন খামে মুড়ে পরের যাত্রীদের দেওয়া হয়।

রেলের এই হাই-টেক উদ্যোগে যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *