৭ লক্ষ কোটির ঋণের বোঝায় ধুঁকছে বাংলা! সিএজি রিপোর্ট সামনে আসতেই বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি সরাসরি আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের এই নতুন সিএজি রিপোর্টে রাজ্যের অর্থনীতির এক অত্যন্ত আশঙ্কাজনক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।

এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন যে, বিগত এক দশকে রাজ্যের ঋণের পাহাড় জমলেও সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা হয়নি, যার ফলে থমকে গেছে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন। সিএজি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা, রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছেছে ৬৪,৪৮৮ কোটি টাকায় এবং মোট ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৭.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি।

কেন্দ্রীয় অনুদানের ওপর চরম নির্ভরশীলতা:
রিপোর্টে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে যে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত টানা দশ বছর ধরে রাজস্ব ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে রাজ্য। বর্তমান আয়ের প্রায় ৫২ শতাংশই আসছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সাহায্য বা অনুদান থেকে। অথচ এর বিপরীতে মূলধনী ব্যয় কমছে, পাহাড়প্রমাণ ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনীতির নাভিশ্বাস উঠছে এবং বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের সঠিক সদ্ব্যবহার হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, কেন্দ্রের অর্থে চলা প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে, যা রাজ্যকে ক্রমাগত পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল ঋণ নিয়ে প্রশাসনিক চলতি খরচ চালানো এবং ঋণের সুদ মেটানো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বেকারত্ব বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের আকাল এবং লগ্নিকারীদের রাজ্যবিমুখ হওয়ার পেছনে এই আর্থিক অব্যবস্থাপনাকেই অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়:
সিএজি-র এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সাহায্য ও বিভিন্ন প্রকল্পের মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া সত্ত্বেও যদি পাহাড়সমান ঋণ জমে, তবে সেই বিপুল অর্থ আসলে কোথায় যাচ্ছে? কর্মসংস্থানের এই বেহাল দশা ও শিল্পের খরা কেন কাটছে না—তা নিয়ে উঠেছে জোরালো প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের জবাবে বর্তমান প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *