টাকা খরচে এবার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক! পঞ্চায়েত আইন বদল নিয়ে কী বললেন সুজন চক্রবর্তী?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক কাঠামোর বড়সড় বদল দেখতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। এবার সরাসরি রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অনেকটাই ছাঁটাই করে দিল বর্তমান বিজেপি সরকার। বিধানসভার চলতি অধিবেশনে কড়া বিল এনে পাশ করিয়ে নেওয়া হলো পঞ্চায়েত আইন সংশোধনী বিল। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল বা ফান্ড থেকে যেকোনো ধরনের টাকা খরচ করতে হলে পঞ্চায়েত প্রধানের পাশাপাশি ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট’ (Executive Assistant)-এর স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হলো।

কী প্রতিক্রিয়া সুজন চক্রবর্তীর?
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। সরকারের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনার কথা বলা হলেও আদতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করে আমলাতন্ত্রের বা আধিকারিকদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচিত প্রধানদের পাশ কাটিয়ে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েত ব্যবস্থার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দেশজুড়ে নিট আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা
অন্যদিকে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চলা লাগাতার দুর্নীতি এবং ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্রসমাজের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছিল। “চলবে না প্রশ্নফাঁস, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল আন্দোলন। রাজধানী দিল্লি সহ পাটনা, ছাপরা থেকে শুরু করে গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত ছাত্র-যুবদের তীব্র বিক্ষোভে কেঁপে ওঠে দেশ।

চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে গত শনিবারই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি পূরণ এবং দফায় দফায় বিক্ষোভের জেরে অবশেষে মোদী সরকারের এই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *