কমনওয়েলথ গেমসে বড়সড় দুর্ঘটনা! বার থেকে সজোরে ফ্লোরে আছড়ে পড়লেন ১৯ বছরের ইংলিশ জিমন্যাস্ট

কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের দলগত জিমন্যাস্টিক্সের ফাইনাল চলাকালীন ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। মুহূর্তের অসাবধানতা এবং সামান্য হিসেবের ভুলে হাই-বার ফসকে সজোরে ফ্লোরে আছড়ে পড়লেন ১৯ বছর বয়সি ইংরেজ জিমন্যাস্ট গ্যাব্রিয়েল ল্যাংটন (Gabriel Langton)। পতনের সময় তাঁর মাথাটি নীচের দিকে থাকায় সরাসরি মাথায় আঘাত লাগে, যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এরিনায় উপস্থিত দর্শকরা ও প্রতিযোগীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল ফাইনালে?
এদিন ফাইনালে হাই-বার রুটিন পারফরম্যান্স করার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বার আঁকড়ে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় মাথা নীচের দিকে থাকা অবস্থায় প্রায় তিন মিটার উচ্চতা থেকে সরাসরি ফ্লোরে গিয়ে পড়েন ল্যাংটন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি নিজে থেকে আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ ফাইনাল খেলা বন্ধ রাখা হয়। ফ্লোরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হেড অ্যান্ড নেক সাপোর্ট দিয়ে স্ট্রেচারে শুইয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, ছ’বারের অলিম্পিক্স পদকজয়ী ম্যাক্স হুইটলক চোট পাওয়ার কারণে তাঁর বদলি হিসেবেই কমনওয়েলথের ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই তরুণ জিমন্যাস্ট।
হাতছাড়া সোনা, রুপোতেই সন্তুষ্ট ইংল্যান্ড
টানা চতুর্থবারের জন্য কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের দলগত বিভাগে সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ম্যাটে নেমেছিল শক্তিশালী ইংল্যান্ড দল। কিন্তু দলের অন্যতম সদস্যের এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বাকি প্রতিযোগীদের মনে গভীর আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। যার ফলে খেতাব ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় তারা। কানাডার কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত রুপোর পদক জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইংল্যান্ডকে। ল্যাংটন হাসপাতালে থাকায় পোডিয়ামেও উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সতীর্থরা সেই রুপোর পদক গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথম পুরুষদের দলগত ইভেন্টে সোনা হাতছাড়া হলো ইংল্যান্ডের।
স্বস্তির খবর, বিপদমুক্ত গ্যাব্রিয়েল
তবে কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শনিবারই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ওই ইংলিশ জিমন্যাস্টকে। গ্যাব্রিয়েল ল্যাংটন বর্তমানে সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত রয়েছেন।
ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “গ্যাব্রিয়েলকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সারারাত তাঁর ওপর সতর্কতামূলক নজরদারি রাখা হয় এবং একাধিক স্ক্যান করা হয়। সমস্ত পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক এসেছে। বড় ধরনের গুরুতর কোনো আঘাত থেকে সে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে এবং শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে টিম হোটেলেই ফিরে এসেছে।”