ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরই দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী! জেনে নিন তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও পরিচয়

দেশজুড়ে ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্রসমাজের লাগাতার ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে শনিবারই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরেই, দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতা প্রহ্লাদ যোশী। নিজের বর্তমান মন্ত্রকগুলির পাশাপাশি এখন থেকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রকেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন।
কে এই প্রহ্লাদ যোশী?
১৯৬২ সালের ২৭ নভেম্বর কর্ণাটকের বিজয়পুরায় (পূর্বতন বিজাপুর) এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রহ্লাদ যোশী। তাঁর বাবা ভারতীয় রেলে চাকরি করতেন। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি ঝোঁক থাকায় তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে কর্ণাটকের মাটিতেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে তাঁর জনসেবার দীর্ঘ পথচলা শুরু হয়।
হুবলির রেলওয়ে স্কুল এবং নিউ ইংলিশ স্কুল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ শেষ করার পর, ১৯৮৩ সালে তিনি ধারওয়াড়ের কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কড়সিদ্ধেশ্বর আর্টস কলেজ থেকে কলাবিভাগে স্নাতক (BA) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটতে শুরু করেছিল।
রাজনৈতিক কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন
পরিবার সূত্রে যোশীর স্ত্রী জ্যোতি যোশী রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। তবে মাঝেমাঝে নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে দেখা যায়। এই দম্পতির তিন কন্যা সন্তান রয়েছে—অর্পিতা, অনুশা এবং অনন্যা। সচরাচর প্রচারের আলো থেকে নিজেদের দূরে রাখতেই ভালোবাসে যোশী পরিবার।
২০০৪ সাল থেকে কর্ণাটকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে জয়লাভ করে আসছেন প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা সুদীর্ঘ:
২০১৯ থেকে ২০২৪: নরেন্দ্র মোদীর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় তিনি সফলভাবে সংসদীয় বিষয়ক, কয়লা এবং খনি মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।
২০২৪ সালের জুন: মোদীর মন্ত্রিসভায় তিনি ক্রেতাসুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নবীন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব পান।
এছাড়া তিনি কর্ণাটক রাজ্যে বিজেপির জেলা ও রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।
বর্তমানে দেশে শিক্ষা সংক্রান্ত এক গভীর সংকটের মুহূর্তে তাঁর কাঁধে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব আসায়, নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কার্যপদ্ধতির দিকেই এখন দেশের শিক্ষক ও ছাত্রসমাজের নজর রয়েছে।