‘হিংসা নয়, আলোচনার পথেই সমাধান!’ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মুখ খুললেন বর্ষীয়ান সমাজকর্মী আন্না হাজারে

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারে। শনিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যেকোনো সামাজিক সমস্যা বা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিরসনের একমাত্র সঠিক পথ হলো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আলোচনা।

মহারাষ্ট্রের আহিলিয়ানগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৮৯ বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান সমাজকর্মী গণতন্ত্র ও আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোনো হুকুমদারি শাসন নয়। সর্বদা গণতন্ত্রের পথই অনুসরণ করা উচিত।” সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো স্থায়ী ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অহিংসার পথ অনুসরণের বার্তা
নিজের দীর্ঘ জীবনসংগ্রামের উদাহরণ দিয়ে আন্না হাজারে জানান, তিনি জীবনে মোট ২২ বার অনশন করেছেন, কিন্তু কখনোই কোনো পরিস্থিতিতে সহিংসতার পথ বেছে নেননি। বরং এই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের পথ ধরেই দেশে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনমুখী আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনো সমস্যার সমাধান আসে আলোচনার মাধ্যমেই। অশান্তি সৃষ্টি করা বা ভুল পথে হাঁটা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যে-ই হোক না কেন, কখনোই সহিংসতার পথ নেওয়া উচিত নয়।”

সরকারের প্রতি পরামর্শ ও যন্তর মন্তরে আন্দোলন সমাপ্তি
প্রশাসন ও সরকারের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে প্রবীণ সমাজকর্মী বলেন, সরকারের উচিত সবসময় সাধারণ মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা এবং জনকল্যাণকে নিজেদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে প্রশাসনের এক ধাপ এগিয়ে এসে আলোচনা করা উচিত, এতে মানের কোনো হানি হয় না। হিংসার পরিবেশের বদলে আলোচনার টেবিলেই যে প্রকৃত জনস্বার্থ সুরক্ষিত হয়, সে কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করায় ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’-তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদলের তৃতীয় দফার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক সফল হওয়ার পরই দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিন ধরে চলা আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা করে CJP। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের সমস্ত দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা সদর্থক মনোভাব দেখিয়েই আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *