“সুবহ হো গই মামু!” শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরই হুঙ্কার ‘ককরোচ’ প্রধান অভিজিৎ দিপকের

তাঁর এক ডাকেই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে দেশের নানা প্রান্তে রাস্তাঘাট মুখরিত হয়েছিল লক্ষাধিক তরুণের সমবেত কণ্ঠে। একটাই দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল— ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই’। অবশেষে সেই দাবিতেই শিলমোহর বসল। দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদী সরকার এই দাবি মেনে নেওয়ার পরেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং দেশের জেন-জি (Gen Z) আন্দোলনকারীরা।

যন্তর মন্তরের ধর্না মঞ্চে দাঁড়িয়ে শূন্যে মুষ্টিবদ্ধ ডানহাত ছুড়ে এই জয়ের ঘোষণা করেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা তথা তরুণ মুখ অভিজিৎ দিপকে। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে উপস্থিত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর উদ্দেশে তিনি স্লোগান তোলেন— ‘লং লিভ স্টুডেন্টস পাওয়ার’ (Long Live Students’ Power)।

কটাক্ষ ও হুঙ্কার অভিজিৎ দিপকের

কটাক্ষের সুরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “সুবহ হো গই মামু! ওরা নিজেদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল। মাথায় রাখবেন, আরশোলা একবার ঢুকলে আর বেরোয় না। অনেকেই বলেছিলেন, এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।” ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগকেই খাঁটি ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

ভিড়ের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে অভিজিৎ আরও বলেন, “ঝুঁকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুঁকানেওলা চাহিয়ে।” তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রধান দাবি মানা হলেও সরকারের কাছে তাঁদের বাকি দুটি দাবিও দ্রুত পূরণ করতে হবে। মঞ্চে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ছবি হাতে তুলে নিয়ে, প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে তিনি বলেন, “আত্মঘাতী প্রতিটি পড়ুয়ার পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। এটাই আমাদের দ্বিতীয় দাবি। আর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মিথ্যা মামলা রুজু হয়েছে, তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।”

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাপত্র

দেশব্যাপী ‘ককরোচ’ আন্দোলনের চরম চাপের মুখে পড়ে শনিবার দুপুরে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিজের এক্স (Twitter) হ্যান্ডলে ইস্তফাপত্র শেয়ার করে তিনি লেখেন, “দেশের যুবশক্তিই আসল। তাঁরা যাতে কোনও বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমার মন ভারাক্রান্ত। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *