“এটা দিদি পাঠিয়েছে!” ফিসফিস কথা শুনতেই থমকে গেলেন মন্ত্রী তাপস রায়! আসল রহস্য জানলে হেসে খুন হবেন!

রাজনীতির ময়দানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কাদা ছোড়াছুড়ি আর কথার লড়াই যতই থাকুক না কেন, মাঝেমধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিগত সৌজন্যের ছবি সামনে আসে যা গোটা রাজনৈতিক মহলকে তো বটেই, সাধারণ মানুষকেও চমকে দেয়। সম্প্রতি তেমনই এক মজার, অপ্রত্যাশিত এবং হালকা মেজাজের ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। জন্মদিনের দিনে এক ব্যক্তির মুখে ‘এটা দিদি পাঠিয়েছে’ এই ছোট্ট কথাটি শুনে প্রথমে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
জন্মদিনের সেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত
প্রতি বছর ৪ জুলাই অত্যন্ত ধুমধাম করেই পালিত হয় প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা মন্ত্রী তাপস রায়ের জন্মদিন। স্বাভাবিকভাবেই সেই বিশেষ দিনে তাঁর বাসভবনে শুভানুধ্যায়ী, কর্মী ও অনুগামীদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। ঘটনার দিন নিজের জন্মদিনের আনন্দঘন মুহূর্তে বাড়ির নিচের ঘরে বসেছিলেন মন্ত্রী মহাশয়। ঠিক সেই সময়ই এক আগন্তুক এসে তাঁর হাতে একটি সুন্দর ফুলের তোড়া ও একটি গ্রিটিংস কার্ড তুলে দেন।
স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই মন্ত্রী যখন সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে যাবেন, ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি অত্যন্ত রহস্যের সুরে ফিসফিস করে তাঁর কানে কানে বলেন, ‘এটা দিদি পাঠিয়েছে’।
চমকে যাওয়ার আসল কারণ ও ধোঁয়াশা
এই একটিমাত্র বাক্য শোনামাত্রই যেন মুহূর্তের জন্য থমকে যান তাপস রায়। তাঁর মাথায় ঝড়ের বেগে ঘুরপাক খেতে শুরু করে নানা প্রশ্ন। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া এবং শাসক শিবিরকে নিয়মিত তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা একজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে খোদ ‘দিদি’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠালেন? বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দুপক্ষের শীতল সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি তাঁকে সাময়িকভাবে এক বড়সড় ধাক্কা দেয়।
শেষ পর্যন্ত রহস্যের উন্মোচন!
তবে এই ধোঁয়াশা ও চমক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। হতবাক হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই কার্ডটি খুলে ফেলেন তাপস বাবু। খাম বা কার্ড খুলতেই পরিষ্কার হয়ে যায় আসল সত্যিটা—শুভেচ্ছা বার্তাটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠাননি; সেটি পাঠিয়েছেন সম্পূর্ণ অন্য এক ‘দিদি’!
আসলে ওই শুভেচ্ছা কার্ডটি পাঠিয়েছিলেন মানিকতলা উপনির্বাচনে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রয়াত প্রবীণ নেতা সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। রাজনৈতিক ময়দানে শ্রেয়া পাণ্ডে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সূত্রে এই রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে ওই আগন্তুকের রহস্যময় ফিসফিসানি এবং ‘দিদি পাঠিয়েছে’ কথাটির জেরে জন্মদিনের সকালে যে এক চমৎকার ‘রং নম্বর’ বিভ্রাট তৈরি হয়েছিল, তা নিজেই পরবর্তীকালে এক আড্ডায় দারুণ হাসিমুখে শেয়ার করেছেন মন্ত্রী তাপস রায়।