রিলস আর ইউটিউব শর্টস থেকে টাকা কামাচ্ছেন? এবার সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া ফাঁস করা যাবে না আদালতের ভিডিও!

আদালতের শুনানির অডিও বা ভিডিও ক্লিপ কেটে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, রি-পোস্ট করা কিংবা তা থেকে আর্থিক রোজগার করার উপর বড়সড় নিষেধাজ্ঞা জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগে থেকে লিখিত অনুমতি না থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আদালত কক্ষের কোনো রেকর্ডিং পোস্ট বা শেয়ার করা যাবে না।

ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ পাস করেছেন। আইনি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার থেকে সুপ্রিম কোর্ট বা দেশের যেকোনো হাইকোর্টের শুনানির অডিও-ভিডিও ক্লিপ জনসমক্ষে শেয়ার করতে গেলে আদালতের আগাম ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ তাদের রায়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে—

“সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেল অথবা সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের পূর্বানুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ, এডিটিং (modification), প্রচার (dissemination), পোস্টিং, রি-পোস্টিং, আপলোডিং বা মনিটাইজেশন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব ও নানা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আদালতের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ছোট ছোট অংশ শর্টস বা রিলস হিসেবে কেটে, সেখানে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে আপলোড করার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। এমনকি অনেকে এই সমস্ত ভিডিও থেকে আর্থিক মুনাফাও তৈরি করছিলেন, যা সরাসরি আদালতের ভাবমূর্তি ও বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে আঘাত করছিল। সেই বেপরোয়া প্রবণতাতেই এবার বড়সড় লাগাম টানল শীর্ষ আদালত।

সংবাদ পরিবেশনে কতটা প্রভাব পড়বে?

তবে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের তথ্যের অধিকারের কথা পুরোপুরি বিবেচনা করে, মূলধারার সাংবাদিকতা ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনের ওপর কোনো বাধা আরোপ করেনি সর্বোচ্চ আদালত। নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমগুলো পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে, তবে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আদালতের ক্লিপ ব্যবহারের দিন এবার শেষ বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *