প্রশ্নফাঁস এবার ‘সংগঠিত অপরাধ’! কড়া আইন আনতে চলেছে মন্ত্রিসভা, শাস্তির বিধান জানলে চমকে উঠবেন

দেশজুড়ে NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে চলা তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নতুন এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রশ্নফাঁসকে একটি ‘সংগঠিত অপরাধ’ (Organized Crime) হিসেবে চিহ্নিত করে একটি নতুন বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহেই সংসদে এই বিল পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন বিলে কী কী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে?
-
কারাদণ্ড ও জরিমানা: এই নতুন আইন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের জন্য কমপক্ষে ১০ বছরের জেলের সংস্থান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অপরাধীদের সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
-
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট: মামলা দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের বৈঠক এবং অন্যান্য আপডেট:
শুক্রবার আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্র। বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হয়:
-
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে ইস্তফা। (এই বিষয়ে সরকার কিছুটা সময় চেয়েছে বলে জানিয়েছে CJP)।
-
ক্ষতিপূরণ: আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
-
মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার করা।
CJP-র দাবি অনুযায়ী, প্রথম দাবি বাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে শনিবার ফের দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বসার কথা রয়েছে।
দেশজুড়ে আন্দোলনের জেরে কড়াকড়ি:
এদিকে, NEET বিতর্কের জেরে রাজধানী দিল্লি সহ কলকাতা, কেরালা, বিহার, রাজস্থান, মুম্বই ও মধ্যপ্রদেশে আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিক্ষোভের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) লোক কল্যাণ মার্গ, প্যাটেল চৌক, সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি গেট সহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজীব চৌক ও মান্ডি হাউসের মতো ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলি খোলা রাখা হয়েছে।