একই শিবলিঙ্গে বিষ্ণু ও শিব! বিশ্বের একমাত্র এই মন্দিরে লুকিয়ে রয়েছে কোন অলৌকিক রহস্য?

সোনপুর (বিহার): দেশ তথা বিশ্বের বুকে এমন এক অনন্য তীর্থক্ষেত্র রয়েছে, যা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিহারের সোনপুর হলো দেশের একমাত্র স্থান, যেখানে মন্দিরের গর্ভগৃহে ভগবান বিষ্ণু এবং ভগবান শিব একই সঙ্গে একটিমাত্র শিবলিঙ্গে বিরাজমান। গণ্ডক নদীর তীরে অবস্থিত বাবা হরিহরনাথের এই মন্দিরের মহিমা ও মাহাত্ম্য সত্যি অতুলনীয়। এখানে এক অর্ধাংশে ভগবান বিষ্ণু এবং অন্য অর্ধাংশে মহাদেব শিব অধিষ্ঠিত থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত।

হরি ও হরের অদ্ভুত মিলনস্থল
মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের মতে, গঙ্গা ও গণ্ডক নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এটিই দেশের একমাত্র মন্দির, যেখানে বিষ্ণু ও শিব একই মূর্তিতে অবস্থান করছেন। এটি মূলত ভগবান বিষ্ণু ও দেবাদিদেবের মিলনের পবিত্র প্রতীক। দেশ বা বিদেশের অন্য কোনো মন্দিরে এই দুই প্রধান দেবতার এমন যৌথ রূপ সচরাচর দেখা যায় না; সাধারণত তাঁদের আলাদা মন্দিরেই পুজো করা হয়। পুরোহিত আরও জানান, একসঙ্গে হরি ও হরের পুজো করলে ভক্তদের সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।

শ্রাবণ মাস ও কার্তিক পূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য
শ্রাবণ মাস এলেই এই মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। ভক্তদের নিরবচ্ছিন্ন জলাভিষেক এবং পুজো নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বরে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরুষ ও মহিলা ভক্তদের জন্য আলাদা ব্যারিকেড ছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নারী ও পুরুষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি, একটি মেডিকেল টিম এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা চত্বর পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাবা হরিহরনাথের জমকালো আরতি ও বিশেষ সজ্জার আয়োজন করা হয়।

বিহারের মুজাফফরপুরের বাবা গরিবনাথ মন্দিরে জলাভিষেকের পর শত শত ‘ডাক ও বোল बम’ কাওয়ারিয়া ভক্ত গঙ্গা নদী থেকে পবিত্র জল এনে এখানেও পুজো দেন। পাটনা, ছাপড়া, বৈশালী, সিওয়ান, মুজাফফরপুর, সমস্তিপুর ও দানাপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে। শুধু শ্রাবণ মাসেই নয়, প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমার পবিত্র স্নান উপলক্ষে গঙ্গা ও গণ্ডক নদীতে পুণ্যস্নান করতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত হাজির হন। এছাড়া, বিশ্ববিখ্যাত ‘হরিহর ক্ষেত্র সোনপুর মেলা’ চলাকালীন দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও এই মন্দিরে এসে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *