দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ হতেই জ্যাকার ‘বিচ্যাট’-এ নজর সরকারের! গিটহাবকে রিমুভ করার নির্দেশ

টুইটারের (বর্তমান এক্স) সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডোর্সির তৈরি আলোচিত ব্লুটুথ মেশ মেসেজিং অ্যাপ ‘বিচ্যাট’ (Bitchat) গিটহাব থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার উদ্বেগকে কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এই নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারের মতে, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে বৈধ নজরদারি ও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিক্ষোভের জেরে রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাৱে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইন্টারনেট বা সেলুলার নেটওয়ার্ক ছাড়াই অফলাইনে যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে সরকারের আশঙ্কা, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সময় এই ধরনের টুলস বেআইনি কার্যকলাপ ও ভিড় সংগঠিত করতে ব্যবহার করা হতে পারে।

গত ২৩ জুলাইয়ের আদেশে I4C ইনফরমেশন টেকনোলজি আইনের ধারা ৭৯(৩)(বি) এবং ২০২১ সালের আইটি নিয়মের ৩(১)(ডি) ধারা প্রয়োগ করেছে। গিটহাবকে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ‘বিচ্যাট’ সম্পর্কিত তিনটি রিপোজিটরি সরিয়ে বা নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। খোদ অ্যাপটির স্রষ্টা জ্যাক ডোর্সিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি শেয়ার করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কী এই ‘বিচ্যাট’?
জ্যাক ডোর্সির তৈরি ওপেন-সোর্স এই মেসেজিং অ্যাপটির বিশেষত্ব হলো, এটি মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বা কোনো সেন্ট্রাল সার্ভার ছাড়াই ব্লুটুথ মেশ প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে। তবে I4C-এর মতে, এই বিকেন্দ্রীকৃত নকশার কারণে অপরাধী শনাক্তকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে নজরদারি চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

বিক্ষোভের সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো, বেআইনি জমায়েত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সাইবার ক্রাইম বিভাগ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গিটহাব এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *