সারা বছর ধরে কড়া নজর রাখবে সুপ্রিম কোর্ট! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় কেন্দ্র ও NTA-র কাছে চাওয়া হলো বিস্তারিত রিপোর্ট

NEET-UG প্রশ্নফাঁস এবং একের পর এক জালিয়াতির ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের পর এবার নড়েচড়ে বসল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া পদক্ষেপের বার্তার পর শুক্রবার এই মামলায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সাফ নির্দেশ—“আমরা এই প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখব। সংস্কারগুলি যাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। সারা বছর ধরে আমরা এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব।” পরীক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে শুক্রবার কেন্দ্র ও জাতীয় পরীক্ষা সংস্থাকে (NTA) একটি বিস্তারিত হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখার নির্দেশ
বিচারপতি পিএস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ জানিয়েছে, পরীক্ষাব্যবস্থায় আনা সংস্কারগুলি কীভাবে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা হলফনামায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো ধরনের অস্থায়ী বা অ্যাড-হক (ad hoc) ব্যবস্থা কাম্য নয়, বরং চাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কারের পাকা রূপরেখা।

শীর্ষ আদালতের তরফে যে সমস্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে:

প্রস্তাবিত গভর্নিং বোর্ড এবং বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন ইউনিটের কার্যকারিতা।

স্টেকহোল্ডারদের মনোনয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি।

পরীক্ষার আগে, পরীক্ষা চলাকালীন এবং পরীক্ষা-পরবর্তী প্রতিটি ধাপের সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট।

বায়ুসেনার ব্যবহার স্থায়ী সমাধান নয়: পর্যবেক্ষণ আদালতের
পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিগত দিনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বলতে গিয়ে আদালত জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া ছিল কেবলই একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। এটি কখনই দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও পরিবহণ ব্যবস্থা, রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে একাধিক সেশনে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত। আগামী দিনে সম্পূর্ণ কম্পিউটার বেসড টেস্টিং (CBT) বা অনলাইন মোড চালুর পরিকল্পনা এবং পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও সাইবার সুরক্ষার বিষয়টিও হলফনামায় স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। এমনকি, পরীক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বিমানবন্দরগুলির মতো ‘ডিজি যাত্রা’ (DigiYatra)-র মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তাও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী হলফনামায় এই সমস্ত বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায়, কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নতুন করে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে আগামী সোমবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *