‘সবই ভুয়ো খবর!’ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আসল সত্যিটা ফাঁস করলেন SC-র প্রধান বিচারপতি

দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ ও লাঠিচার্জ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত দু’দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল যে, এই সংক্রান্ত জরুরি শুনানির আবেদন সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দিয়েছে। আর এই খবর নিয়েই শুক্রবার চরম উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এই সংক্রান্ত কোনো মামলা বা আর্জি শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রিতে জমা-ই পড়েনি! ফলে কোনো মামলা দায়ের না হলে আদালত তা শুনতে অস্বীকার করল কীভাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
শুক্রবার অন্য একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার উপস্থিতিতে শীর্ষ বেঞ্চের সামনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি জানান, এই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পরই তিনি আদালতের প্রধান রেজিস্ট্রির সঙ্গে কথা বলে সমস্ত বিষয়টি নিজে খতিয়ে দেখেছেন।

প্রধান বিচারপতির ক্ষোভের সুরে মন্তব্য, “গত দু’দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল এবং প্রধান বিচারপতি তা তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকার করেছেন। অথচ রেজিস্ট্রি থেকে আমি নিজে সত্যতা যাচাই করেছি, সকাল ১০টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে একটি পাতাও জমা পড়েনি। কেবল একটি প্রতিনিধিত্ব (Representation) বা চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটা কীভাবে একটি রিট পিটিশন হয়ে যায়?” উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র মৌখিকভাবে সিজেপি আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের ভিডিও খতিয়ে দেখে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) পদক্ষেপের আর্জি জানালে, আদালত সময় নেই বলে তা খারিজ করেছিল। আর সেই ঘটনাকেই ঘিরে পরে ভুল তথ্যের সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।

দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও সিসিটিভি সংরক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টে মামলা খারিজের ভুয়ো তথ্য নিয়ে বিতর্ক চললেও, অন্যদিকে দিল্লি হাইকোর্ট এই একই ঘটনায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কড়া নোটিস জারি করেছে। গত ২০ জুলাইয়ের যন্তর মন্তরের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং পুলিশি নথি অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার ও সিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ
এদিকে শুক্রবার সিজেপি আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় সামনে এসেছে। দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে আমরণ অনশন চালানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে নিজের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ করবে না। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্দোলনকারীদের দাবিপত্র নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথও খোলা হয়েছে।

এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সোনম ওয়াংচুক অনশন তুললেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সঠিক জবাবদিহির দাবিতে তাঁদের এই রাজপথের আন্দোলন ও লড়াই কোনোভাবেই থামছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *