‘সবই ভুয়ো ও যথেচ্ছাচার খবর!’ নিট ও পুলিশি অত্যাচার মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তুলোধোনা প্রধান বিচারপতির

দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি। এর মাঝেই পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অত্যাচার সংক্রান্ত একটি জরুরি মামলার শুনানি খারিজ করা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘যথেচ্ছাচার’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কেন্দ্র কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা তারা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে।
ঠিক কী ঘটেছিল আদালতে?
গত ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে সংসদ চলো অভিযানে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করার আবেদন জানান এক মামলাকারী।
তিনি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কাছে দাবি করেন, তাঁর কাছে পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও রয়েছে এবং যন্তরমন্তরে শিক্ষার্থীরা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাকারীর সেই জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।”
সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রধান বিচারপতির
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হতেই শুক্রবার প্রকাশ্য আদালতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি দাবি করেন, এই সংক্রান্ত সমস্ত খবরই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এমন কোনও মামলাই দায়ের হয়নি। গত দু’দিন ধরে সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। মিথ্যা খবর প্রকাশিত হয়েছে যে প্রধান বিচারপতি মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে চাননি।” তিনি আরও যোগ করেন, সকাল ১০টা পর্যন্ত আদালতে মামলার একটি পাতাও দায়ের করা হয়নি। কেউ মুখে কিছু বললেই তাকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, অথচ তা নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য ও যথেচ্ছাচার প্রচার করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।