স্বাস্থ্যকর ভেবে প্যাকেটবন্দি ফলের রস খাচ্ছেন? বড় বিপদের মুখে পড়ছেন না তো! সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

ফলের রস অনেকেই পান করে থাকেন। আর ফলের রস মানেই তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী—এমনটাই আমাদের চিরন্তন বিশ্বাস। বাজারে এখন একাধিক সংস্থার ফলের রসের প্যাক যেমন সহজলভ্য, তেমনই যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে জুসের দোকানও।
তবে ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ‘ন্যাশনাল নিউট্রিশন উইক’-এর মাঝেই ফ্রুট জুস খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। তাদের সাফ দাবি, প্যাকেটজাত ফলের রস তো বটেই, এমনকি ঘরে তৈরি ফলের রসও স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়!
প্যাকেটের জুসে কেন বিপদ?
প্যাকেটের গায়ে হাজারও স্বাস্থ্যকর ট্যাগ বা বিজ্ঞাপন লেখা থাকলেও চিকিৎসকদের মতে সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রক্রিয়াজাত এই ফলের রসে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজের দারুণ ঘাটতি থাকে।
সবচেয়ে ভয়ের কারণ হলো এতে থাকা উচ্চমাত্রার শর্করা বা সুগার। এই অতিরিক্ত চিনি সরাসরি শরীরে ঢুকে ডেকে আনে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) এবং স্থূলতা (ওজন বৃদ্ধি)-র মতো মারাত্মক সমস্যা।
ঘরে তৈরি জুস খাওয়া নিয়েও রয়েছে সতর্কতা
প্রখ্যাত ফোর্টিস হাসপাতালের চিকিৎসক শ্বেতা গুপ্তা এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, শুধুমাত্র প্যাকেটবন্দি জুসই নয়, সাধারণভাবে ফল পিষে রস করে খাওয়াও উচিত নয়। কারণ তাতেও ফলের আসল পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
একই সুর শোনা গেছে দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের চিকিৎসক সুখবিন্দর সিং সাগ্গুর গলাতেও। তাঁর দাবি, জুস তৈরি করার সময় ফলের ভেতরের প্রয়োজনীয় পাচন রস ও ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, যা ফলের রসের সার্বিক গুণমানকে মারাত্মকভাবে নিচে নামিয়ে দেয়।
আসল সমাধান কী?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, কোনো ধরনের ফলের রস বা জুস না খেয়ে সরাসরি আস্ত ফল চিবিয়ে খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। ফল খাওয়ার আসল পুষ্টিগুণ পেতে জুসের বদলে সবসময় গোটা ফলকেই খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়া উচিত।