নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার বড় মোড়! কলকাতার কর্মসূচি নিয়ে মুখ খুললেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু অধিকারী!

দেশজুড়ে নিট (NEET) ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমশ দানা বাঁধছে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি এই বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী করেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির পর এবার এই আন্দোলনের আঁচ পড়তে চলেছে খাস কলকাতায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কলকাতার কর্মসূচি ও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুর্নীতি বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এর পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, যাদবপুরের বেশ কয়েকজন হস্টেল পড়ুয়া তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তাঁরা কোনো আন্দোলনে স্বেচ্ছায় অংশ নিতে চাননি, বরং তাঁদের জোর করে নামানো হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে মিছিল-মিটিং বা প্রতিবাদ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, কিন্তু কাউকেই জোর করে কোনো আন্দোলনে সামিল করা উচিত নয়।” শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কলকাতায় সিজেপির নতুন কর্মসূচি ও পুলিশের অনুমতি বিতর্ক
দিল্লির পর এবার নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দিল্লির সংসদ অভিযান ও রাহুল গান্ধীর আটকের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিলোত্তমায় প্রতিবাদের পরিকল্পনা নিয়েছে এই সংগঠন।
অনুমতির আবেদন: সিজেপির এক সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে একটি বিশাল মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির রূপরেখা: প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত এই মিছিল করার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই মিছিলে অন্তত দেড় হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন।
প্রশাসনের অবস্থান: তবে এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কলকাতা পুলিশ শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
দিল্লির উত্তাপ পেরিয়ে এবার কলকাতার রাজপথে সিজেপির এই কর্মসূচি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।