“ট্রাক আটকে ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি”-রামপুর চেকপোস্ট কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। আর এবার পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে বসার পর কথা মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি বাস্তবায়িত করে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই কড়া ব্যবস্থার কথা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তুলে ধরলেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল রামপুর চেকপোস্টে?
শুক্রবার নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ: JH09BA3535 নম্বরের একটি ট্রাক (যার মালিক দীপক সিং এবং চালক শিবা যাদব) সার্ভিসিং সেরে গ্যারাজ থেকে ফিরছিল।
অভিযোগ: সেই সময় পথে রামপুর চেকপোস্টে কর্তব্যরত কয়েকজন সরকারি আধিকারিক বেআইনিভাবে ট্রাকটি আটকান এবং চালককে নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন।
ঘুষের দাবি: চালককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঘুষ দিতে চাপ দেওয়া হয়। সেই ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় ট্রাকটি আটকে রেখে ট্যাক্স বাবদ জোর করে ২২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ: দুই আধিকারিক সাসপেন্ড
এই ভয়ংকর তোলাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পরিবহন দপ্তর হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৭১-এর রুল ৭(১)(এ) অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
শুধু বিভাগীয় সাসপেনশনই নয়, এই ঘটনার গভীরে যেতে এবং কঠোর ফৌজদারি তদন্ত নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ অভিযোগটি ইতিমধ্যেই অ্যান্টিকরাপশন ব্যুরো (Anti-Corruption Bureau)-র কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, বেআইনিভাবে আটক করে রাখা ওই ট্রাকটি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা
পোস্টের একেবারে শেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কড়া মনোভাব আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, “প্রশাসনের যে কোনও স্তরে দুর্নীতি, হয়রানি বা বেআইনি টাকা আদায়ের সঙ্গে কোনও সরকারি কর্মী জড়িত থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে রাজ্যে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।