“বেঁচে থাকলে ৩১-এ সুদে আসলে ফেরত দেব…” অভিষেকের বিস্ফোরক মন্তব্যে কড়া আইনি পদক্ষেপ!

আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ তলা অফিস বুলডোজার দিয়ে ভাঙার ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি জট তৈরি হলো। “বেঁচে থাকলে ৩১-এ সুদে আসলে ফেরত দেব”—অভিষেকের এই মন্তব্যের ভিত্তিতেই এবার বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে। মোট ৮টি ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঠিক কী কারণে এই এফআইআর?
সম্প্রতি আমতলায় বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ তলা একটি অফিস ভাঙার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, যেখানে তিনি “৩১-এ সুদে আসলে ফেরত দেওয়ার” হুশিয়ারি দেন। আর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিধাননগর কমিশনারেটে সাইবার ক্রাইম বিভাগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে।

কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা অভিষেকের
এই নতুন মামলা ছাড়াও অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় একসঙ্গে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক।

রক্ষাকবচ খারিজ: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, একসঙ্গে এতগুলি মামলা একত্রিত করে শুনানি করা সম্ভব নয় এবং এখনই সার্বিক কোনো অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে না।

ডিজে-হুঁশিয়ারি মামলা: তবে ডিজে-হুঁশিয়ারি মামলায় অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এর মধ্যে পুলিশ যদি কোনো কঠিন পদক্ষেপ করে, তবে যেন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অতীতেও একাধিক মামলা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিষেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। সেবাশ্রয়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা নয়ছয়, মাটি চুরির অভিযোগ এবং তাঁর নিরাপত্তা বলয় সংক্রান্ত ছবি ঘিরেও অতীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এই সমস্ত মামলা একসঙ্গে ক্লাব করে রক্ষাকবচ পাওয়ার আবেদন করলেও আপাতত আদালত তাতে সায় দেয়নি। ফলে আইনি লড়াইয়ে আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনিমহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *