‘ভয় পেয়েছিলাম, তবুও সরেনি পা!’ পুলিশের প্রিজন ভ্যান একা থামিয়ে ভাইরাল, কে এই রিয়া?

মাথায় গোলাপি ক্যাপ, তার ওপর অ্যাশ রঙের হুডি এবং স্লেট রঙের প্যান্ট। হাত তুলে একা হাতে প্রিজন ভ্যান থামিয়ে দেওয়ার একটি দৃশ্য এই মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় চরমভাবে ভাইরাল। জনৈক এই তরুণীর সুদৃঢ় বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং বুকভরা সাহস দেখে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে। আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের বাঁচাতে মাঝরাস্তায় যেভাবে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কে এই সাহসী তরুণী? কীভাবে এল তাঁর মধ্যে এমন অসীম সাহস?
কে এই তরুণী?
ভাইরাল হওয়া এই সাহসী কন্যার নাম রিয়া আহির। তিনি পেশায় একজন মডেল এবং মুম্বইয়েরই বাসিন্দা। তাঁর বয়স মাত্র ২৭ বছর।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ‘আরশোলাদের’ সমর্থনে একটি প্রতিবাদ মিছিল চলছিল। যন্তর মন্তরের সংহতিতে আয়োজিত ওই প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন বহু যুবক-যুবতী। সেখান থেকেই বেশ কয়েকজন প্রতিবাদীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল।
সেই পথ দিয়েই নিজের কাজে যাচ্ছিলেন রিয়া আহির। প্রিজন ভ্যানের মধ্যে বন্দি প্রতিবাদী মুখগুলোকে দেখার পর আর চুপ থাকতে পারেননি তিনি। সটান গিয়ে মাঝরাস্তায় প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে ভ্যান থামিয়ে দেন। পুলিশ কর্মীরা বারবার রাস্তা ছেড়ে সরে যেতে বললেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রিয়া। তিনি স্পষ্ট দাবি জানান, আটক করা প্রতিবাদীদের যেন এখনই ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ আধিকারিকরা কিছু দূর নিয়ে গিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও রিয়ার সাফ কথা ছিল— “তাহলে এখন, এই মুহূর্তে কেন নয়?” রিয়ার এই সাহসিকতা দেখে রাস্তায় উপস্থিত আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষও তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। সেই মুহূর্তের ভিডিওটিই এখন ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে পেলেন এই সাহস?
একটি সাক্ষাৎকারে রিয়া জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোহিনূর স্কোয়্যার থেকে শিবাজি পার্কের দিকে নিজের কাজে যাওয়ার পথেই এই ঘটনা তাঁর চোখে পড়ে। অন্যায়ভাবে প্রতিবাদীদের আটক করে নিয়ে যেতে দেখে তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি।
রিয়ার অকপটে স্বীকারোক্তি, বাইরে থেকে তাঁকে দেখে যতই অকুতভয় মনে হোক না কেন, সেই মুহূর্তে তিনি ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি একটুও পিছপা হননি। তাঁর মনে আশঙ্কা ছিল, আন্দোলনকারীদের এভাবে নিয়ে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এফআইআর (FIR) দায়ের হতে পারে এবং তাঁদের দীর্ঘক্ষণ আটক থাকতে হতে পারে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতেই তিনি এই পথ বেছে নেন। রিয়ার কথায়, “সেদিন যদি আমি ওই মুহূর্তে কিছু না করতাম, তবে নিজের কাছেই আজ ছোট হয়ে যেতাম।”
পুলিশ বারবার ভ্যান এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও রিয়া একচুলও নড়েননি। এর ফলে রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হলেও যাত্রীদের কেউ বিন্দুমাত্র বিরক্ত হননি; বরং রিয়ার এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রত্যেকে। ভয়ের সঙ্গে লড়াই করে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান রিয়া। শেষ পর্যন্ত তাঁর অদম্য জেদের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয় পুলিশ এবং আটককৃতদের ছেড়ে দেয়।
প্রিজন ভ্যান থেকে বেরিয়ে মুক্তি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা সকলেই রিয়ার সঙ্গে হাত মেলান এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানান। পেশায় মডেল রিয়া আহিরের এই সাহসী ও প্রতিবাদী রূপ আজ গোটা দেশের যুবসমাজকে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।