নাম ট্রান্সফার হয়নি? স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে? অন্নপূর্ণা যোজনার সমস্ত হেল্পলাইন ও যোগাযোগের খুঁটিনাটি

রাজ্যে সরকার গঠনের পরই নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল প্রশাসন। পূর্ববর্তী সরকারের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar) যোজনার নাম পরিবর্তন করে এবার আনা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। প্রকল্পের সামগ্রিক কাঠামোয় বড় ধরনের সংশোধন ও পরিমার্জন করে সাধারণ মানুষের সুবিধার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাসে মিলবে ৩,০০০ টাকা
নতুন এই অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা ডিবিটি (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) মারফত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ
পূর্বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি-উপজাতির (SC/ST) মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা মাসিক ভাতা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই শ্রেণিভেদের বিভাজন সম্পূর্ণ তুলে দিয়ে সমস্ত যোগ্য মহিলার জন্য এককালীন ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উপভোক্তারা আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ হাতে পাচ্ছেন।
এক মাসেই ১ কোটি ছুঁয়েছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা
পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইকরণের পরই তাঁদের নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রকল্প চালু হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই এর সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৮ লক্ষ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ১ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
যোগ্যতার শর্তাবলি কী কী?
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আবেদনকারীর একটি আধার-যুক্ত (Aadhaar-linked) সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
কোনো মহিলা নিজে বা তাঁর স্বামী আয়করদাতা (Income Tax Payer) হলে, কিংবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
সরকারের তরফ থেকে সরাসরি পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় ট্রান্সফার করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে এর জন্য উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার পরেও যাঁদের নাম এখনও ট্রান্সফার হয়নি এবং যাঁরা টাকা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।
নাম ট্রান্সফার না হলে বা সমস্যা হলে কী করবেন?
যাঁদের নাম এখনও অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়নি, তাঁদের অফিসিয়াল পোর্টাল বা নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে অনলাইনে ছড়ানো বিভিন্ন ভুয়ো নম্বর বা ফেক পোর্টাল থেকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধুমাত্র অফিশিয়াল মাধ্যমেই যোগাযোগ করা শ্রেয়।
অফিসিয়াল ইমেল ঠিকানা: সমস্যা সমাধানের জন্য contact@annapurnabhandarwb.com অথবা duaresarkar@gmail.com-এ মেল করা যেতে পারে। এছাড়া নোডাল অফিসের ইমেল আইডি secy.wcdsw@gmail.com।
জরুরি হেল্পলাইন নম্বরসমূহ:
টোল-ফ্রি হেল্পলাইন: ১৮০০-৩৪৫-৫৫৫৫ এবং ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫
সমাজকল্যাণ দফতরের টোল-ফ্রি নম্বর: ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫
সিএম কানেক্ট (CM Connect) অভিযোগ সেল: ১৯৭১ বা ১৮০০-৩৪৫৬-৮৫১
দুয়ারে সরকার হেল্পলাইন: ০৩৩-২২১৪৩৫২৬
নোডাল ডেস্ক লাইন: ০৩৩-২৩৩৪১৫৬৩
রাজ্যব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপ সহায়তা নম্বর: ৮২৮২০ ৮২৮২০
অনলাইনে ছড়ানো যেকোনো নম্বরে ফোন করার আগে অফিসিয়াল পোর্টালে তা যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সন্দেহ হলে সরাসরি স্থানীয় বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO) অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি
প্রথমে অফিশিয়াল অন্নপূর্ণা বা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে যেতে হবে।
এরপর ‘অ্যাক্সেস সিটিজেন পোর্টাল’ বা ‘নতুন রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
নিজের জেলা বেছে নিয়ে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর এন্টার করে ওটিপি (OTP) দিয়ে তা যাচাই করতে হবে।
এরপর সাত পর্বের একটি অনলাইন আবেদনপত্র ওপেন হবে। সেখানে মৌলিক তথ্য, রেশন কার্ডের বিবরণ, পারিবারিক সম্পদ, আয় ও পেশা, পরিচয়পত্র সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক দিতে হবে।
সমস্ত নথিপত্র আপলোড করে আবেদনপত্রটি সফলভাবে জমা (Submit) করতে হবে।