প্রতিবাদের অনন্য ভাষা! লাঠি-ঝামেলা নয়, বৃষ্টিতে ভিজেই সুরে সুরে ক্ষোভ উগড়ে দিল মিজোরামের শিক্ষার্থীরা

যখনই আমরা দেশজুড়ে কোনো ছাত্র বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের খবর শুনি, তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের লাঠিচার্জ, টায়ার জ্বালানো বা স্লোগানের এক অশান্ত ছবি। কিন্তু সম্প্রতি মিজোরাম থেকে এমন একটি ছাত্র আন্দোলনের ছবি সামনে এসেছে, যা দেশের প্রতিটি মানুষের নজর কেড়ে নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় ব্যাপক অসদুপায়ের প্রতিবাদে যখন মিজোরামের শত শত ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমেছিল, তখন তারা সহিংসতার পথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে বেছে নিয়েছিল সঙ্গীতের এক শান্ত অথচ শক্তিশালী মাধ্যমকে।
বৃষ্টির ফোঁটায় ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর গান ও আবেগের বিস্ফোরণ
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, চারপাশ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে রয়েছে এবং শত শত ছাত্রছাত্রী হাতে ছাতা নিয়ে একদম শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপর হঠাৎই তারা সবাই মিলে জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই বিখ্যাত গান— “গিভ মি সাম সানশাইন, গিভ মি সাম রেইন…” গাইতে শুরু করে।
কোনো রাগ, ধাক্কাধাক্কি, ভাঙচুর বা হিংসা ছাড়াই এক সুরে গাওয়া এই তরুণ-তরুণীদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনের গভীরের কষ্ট ও যন্ত্রণাকেই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলছিল। গানটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকা করতালিতে ফেটে পড়ে। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এই ভিডিওটির ক্যাপশনটি রীতিমতো হৃদয়স্পর্শী: “এটি কোনো সংগীতানুষ্ঠান নয়, বরং সেইসব তরুণ-তরুণীর কণ্ঠস্বর, যারা আর চুপ থাকতে রাজি নয়।”
কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই অভিনব প্রতিবাদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গিভ মি সাম সানশাইন’ গানটি কেবল একটি সিনেমার গান নয়, এটি আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ এবং লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। মিজোরামের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য বা প্রতিবাদের জন্য সবসময় বিশৃঙ্খলা বা চিৎকার-চেঁচামেচির প্রয়োজন হয় না; বরং শান্তি ও শিল্পের প্রকাশ অনেক বেশি জোরালোভাবে সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছায়।
শুরুতে যে আন্দোলন বা প্রতিবাদ নিছক একটি বিদ্রূপ বা প্রতীকী বিষয় হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা আজ দেশজুড়ে এক গুরুতর রূপ নিয়েছে। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে মিজোরামের সবুজ পাহাড় পর্যন্ত—আজ ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার জোরালো দাবি তুলছেন।