‘পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো কথা নয়!’ মোদীর ঘোষণার পরেও নিজেদের দাবিতে পাহাড়ের মতো অটল সিজেপি

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার চরম সংকটকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যন্তরমন্তরে চলা আন্দোলন কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ (Fast Track Court) গঠনের ঘোষণা করা হলেও, সেই প্রস্তাবে সাফ সায় দেয়নি আন্দোলনকারীরা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তাঁরা অন্য কোনো আলোচনাতেই বসবেন না এবং নিজেদের দাবিতে তাঁরা সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন।

কী ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?
বৃহস্পতিবার সকালেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে লেখেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই! প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, যারা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসকে ‘মহাপাপ’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন যে, এই সমস্যাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রের কাঁধে চাপানোর সুযোগ নেই, এটি একটি সম্পূর্ণ জাতীয় সমস্যা। তাই সকলকে একসঙ্গে এর মোকাবিলা করতে হবে।

সিজেপির দ্ব্যর্থহীন অবস্থান
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেও আন্দোলন থেকে একচুলও নট নড়চড় হতে নারাজ সিজেপি নেতৃত্ব ও ছাত্রছাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রীর ওই পোস্টের জবাবে এক্স হ্যান্ডেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— “আমরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই।” গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সমর্থক সমবেত হয়ে সরকারের কাছে তীব্র জবাবদিহিতা দাবি করছেন। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে আরও অনেক বেশি জোরালো আকার ধারণ করেছে।

শরিকি দলের অস্বস্তি ও রাহুল গান্ধীকে আটকের জল্পনা
এদিকে এই গোটা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের শাসক জোটেও অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে বলে একাধিক রাজনৈতিক সূত্রে খবর মিলছে। এনডিএ-র শরিক দলগুলির একাংশের মধ্যে এমন মত তৈরি হয়েছে যে, যন্তরমন্তরের এই ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের আরও অনেক বেশি কুশলী এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত ছিল। বিশেষ করে, গত মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন, সেই সময় তাঁকে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের সিদ্ধান্তটিকে ভুল প্রশাসনিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কোনো কোনো শরিক নেতা।

উল্লেখ্য, সেদিন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তার খাতিয়ে ওই স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও, রাহুল সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এরপর পুলিশ তাঁকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে রাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, একদিকে সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা এবং অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের নাছোড়বান্দা মনোভাবের জেরে জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক পারদ এখন চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *