‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টাওয়ার থেকে বেরিয়ে এসে পড়ুয়াদের রক্তের দাগ দেখুন!’ মোদী সরকারকে তুলোধনা মল্লিকার্জুন খাড়গের

দেশজুড়ে চলতে থাকা নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। বুধবার সকালে প্রশ্নফাঁস রোধে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক আদালত’ (Fast Track Court) গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সেই বার্তার পরেই একে একে আসরে নেমে কেন্দ্র সরকারকে চরম আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
কী লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?
বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “যারা যুবসমাজের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।” এই ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যই সরকার ‘ফাস্ট ট্র্যাক আদালত’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
রাহুল গান্ধীর তিন দফা আক্রমণ ও ছাত্রের দাবি
প্রধানমন্ত্রীর সেই পোস্ট রি-পোস্ট করেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে রাহুল গান্ধী লেখেন, “আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন আপনিই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি কবজা ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। একইসঙ্গে এর জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুরক্ষাও দিয়েছেন।” এর পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো তুলে ধরে রাহুল ফের একবার স্পষ্ট করে দেন যে সিজেপি (Cockroach Janta Party) ও ছাত্রছাত্রীদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট:
১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে।
২. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. যারা পড়ুয়াদের উপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মল্লিকার্জুন খাড়গের তোপ ও খাস তালুকের হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। মোদীকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, “আপনার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আইভরি টাওয়ার থেকে বেরিয়ে আসুন। তরুণ-তরুণীদের চোখের দিকে তাকান, যারা আপনার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাস্তায় রক্ত ঝরিয়েছে।”
খাড়গের অভিযোগ, বর্তমান শাসনকালে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেশের যুবসমাজের জন্য ফাঁকা বুলি বা টুকরো টুকরো ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনার সরকার তরুণদের উপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করেছে। কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই নির্বিচারে এমন বর্বরতা চালিয়েছে, যেন পড়ুয়ারা আমাদের নিজেদের সন্তানই নয়।” একই সঙ্গে আরএসএস (RSS)-এর দিকে আঙুল তুলে খাড়গের অভিযোগ, বিজেপির মূল সংগঠন গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। পিএলএফএস (PLFS) অনুযায়ী দেশে বেকারত্বের হার পৌঁছেছে রেকর্ড ২৯ শতাংশে। বাজারে কোনো স্থায়ী বেসরকারি চাকরি নেই এবং সরকারি চাকরিও হাতেগোনা। উল্টে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুবসমাজের সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দাবিতে তরুণেরা আজ কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কংগ্রেসের পক্ষে জয়রাম রমেশ, পবন খেরা এবং কে সি বেণুগোপালের মতো প্রথম সারির নেতারাও একই সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন। পবন খেরা ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “শুধুমাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক চেয়ার ও পদ বাঁচাতে গোটা বিজেপি দল তাঁর সমর্থনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।” সবমিলিয়ে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণার পরেও নিট প্রশ্নফাঁস ও ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।