ভল্ট থেকে ১.১০ কোটির সোনা উধাও! অথচ এফআইআর করতে লাগল দীর্ঘ ২ বছর, ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের কাণ্ডে শোরগোল

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের মানগোর আজাদনগর থানা এলাকার ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের (Canara Bank) কবির মেমোরিয়াল শাখা থেকে প্রায় ১.১০ কোটি টাকা (১,১০,৪৮,০০০ টাকা) মূল্যের বন্ধকি সোনা রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের জুন মাসে এই ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘ দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২১ জুলাই আজাদনগর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

৫ ব্যাঙ্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা
ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজার মঙ্গেশ রামানাথনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যাঙ্কের তৎকালীন ও প্রাক্তন বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন:

তৎকালীন সিনিয়র ম্যানেজার তথা প্রথম লকার ইনচার্জ

গোল্ড লোন অফিসার

দ্বিতীয় চাবির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক

অন্যান্য অফিসার ও শাখা প্রধান

পাশাপাশি আরও দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের কেউই বর্তমানে ওই শাখায় কর্মরত নন।

কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?
ব্যাঙ্কে নিয়মিত অডিটের সময় নথিপত্রের সঙ্গে ভল্টে রাখা সোনার পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে গিয়েই এই গরমিল ধরা পড়ে। দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সোনার প্যাকেট ভল্ট থেকে নিখোঁজ। এরপর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব স্তরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়। যেহেতু ব্যাংকের ভল্ট অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে এবং সেখানে প্রবেশের অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরই থাকে, তাই এটি সম্পূর্ণভাবে অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের ঘটনা বলেই প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে।

তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে বিষয়গুলি
পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে জোরদার তদন্ত। বিশেষ করে যে বিষয়গুলির ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে:

কোন চাবি ব্যবহার করে এবং ঠিক কখন ভল্ট খোলা হয়েছিল?

ভল্টের সুরক্ষায় বা লকার সিস্টেমে কোনো প্রযুক্তিগত কারচুপি করা হয়েছিল কি না?

ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ, এন্ট্রি রেজিস্টার এবং লকার অ্যাক্সেস সংক্রান্ত সমস্ত নথি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে—

২০২৪ সালের জুন মাসের ঘটনায় এফআইআর করতে ঠিক কী কারণে দুই বছর সময় লাগল?

কড়া নিয়মের বেড়াজালে নিয়মিত অডিট হওয়া সত্ত্বেও এতদিন কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ সোনার হদিশ নজরের বাইরে রইল?

এটি কি নিছকই গাফিলতি, নাকি এর নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে?

আগে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনা
উল্লেখ্য, আজাদনগর এলাকায় এই নিয়ে পরপর দ্বিতীয়বার ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে সোনা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটল। এর আগে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার একটি শাখা থেকেও ২৭২ গ্রাম সোনা (যার বাজারমূল্য ৩০ লক্ষ টাকার বেশি) নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। যদিও সেই ঘটনায় এক ব্যাঙ্ককর্মী গ্রেফতার হলেও আজও সেই সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একের পর এক এমন ঘটনায় ওই এলাকার ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গোটা তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *