বাঙালির প্রিয় পোস্ত খেলেই কি ডেকে আনছেন মারণ বিপদ? চিকিৎসকদের চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা!

বাঙালির রান্নাঘর মানেই পোস্তর একটা আলাদা কদর রয়েছে। পোস্তর বড়া, কাঁচা পোস্ত বাটা, পোস্ত আলুর ঝোল, ঝিঙে পোস্ত, পটল পোস্ত কিংবা এমন হাজারো সুস্বাদু পদের নাম শুনলেই যে কারও জিভে জল চলে আসে। কিন্তু জিভে জল আনা এই সুস্বাদু পোস্তই কি আপনার শরীরের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে? গবেষকদের সাম্প্রতিক দাবি অন্তত তেমনই এক আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছে।
লখনউয়ের বিখ্যাত কিং জর্জেস মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক জানাচ্ছেন, খেতে ভালো লাগে বলে অতিরিক্ত পরিমাণে পোস্ত খেয়ে ফেললে মানবদেহের হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে গায়ে ছোট ছোট দানার মতো ফুসকুড়ি বের হওয়া কিংবা ত্বকের নানা জটিল সমস্যাও শুরু হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, মাত্রাতিরিক্ত পোস্ত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।
তবে শুধু পোস্তই নয়, গবেষকদের মতে রান্নাঘরের আরও কয়েকটি উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। যেমন—
জায়ফল: খাবারে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত জায়ফল একদিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রামের বেশি শরীরে প্রবেশ করলে বমি ভাব, চোখের সামনে অলীক কিছু ভেসে ওঠার মতো মানসিক বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
হরিতকী: পরিমাণমতো খাওয়ার বাইরে অতিরিক্ত হরিতকী শরীরে প্রবেশ করলে ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
পেঁপে ও জাট্রোফা বীজ: অনেকে রান্নার স্বাদ বাড়াতে পেঁপের বীজ বা জাট্রোফা বীজ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে আমাশয় এবং বমি ভাব শুরু হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, আপাতদৃষ্টিতে রান্নাঘরের অতি চেনা এবং মামুলি বলে মনে হওয়া এই মশলা বা উপাদানগুলিই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে অচিরেই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রেই পরিমিতিবোধ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।